1. admin@banglabahon.com : Md Sohel Reza :
ভারতে থামছেই না জাতিগত দাঙ্গা
শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪, ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন

ভারতে থামছেই না জাতিগত দাঙ্গা

বিদেশ ডেস্ক
  • প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৮ আগস্ট, ২০২৩

ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে এখনো চলছে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা। এখন পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। মসজিদে আগুন দেয়া হয়েছে, গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন ইমাম। বেশ কিছু গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো মুখ খোলেননি দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার এই নীরবতায় ক্ষুব্ধ বিরোধী দলের অনাস্থা ভোটের মুখে পড়েছেন মোদি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নীরব থেকে বিপদমুক্ত থাকতে চাইছেন মোদি। কিন্তু সহিংসতা যেই পর্যায়ে পৌঁছেছে, মোদির আর নীরব থাকার সুযোগ নেই।

হরিয়ানায় সহিংসতার সূত্রপাত হিসেবে এনডিটিভি জানায়, গুরুগ্রাম–সংলগ্ন নুহ এলাকায় একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রা চলাকালে সংঘর্ষ বাঁধে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ব্রিজ মন্ডল জালাভিষেক যাত্রা নামে শোভাযাত্রাটি বের করে। এই শোভাযাত্রা গুরুগ্রাম–আলওয়ার জাতীয় মহাসড়কে পৌঁছা মাত্রই একদল তরুণ শোভাযাত্রা থামিয়ে দেন। এরপর তারা পাথর ছুড়তে শুরু করেন। এরপরই সংঘাত ছড়িয়ে পরে। পরের দিন একটি মসজিদের আগুন দেওয়া হয় এবং ইমামকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল রোববার হরিয়ানায় সংঘর্ষ শুরুর পর আজ সোমবারও তা চলছে। আজ সকালে একটি মসজিদের মিনারে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। তবে কোনো হতাহত হয়নি। গতকাল রোববার সকালে নতুন করে দাঙ্গা শুরু হয়।

বিজেপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে হিন্দু-মুসলিম একাধিক দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছে। সংখ্যালঘু মুসলিমদের অভিযোগ, বিজেপি শাসনামলে তাদের নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

কিন্তু বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এতে করে জনমনে ক্ষোভ আরও বাড়ছে, তৈরি হচ্ছে দ্বিধা। রাজনৈতিক বিশ্লেষক আরতি আর জেরাথ বলেন, ‘আমার মনে হয়, প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা নিয়ে সবাই দ্বিধায় আছে।’

এর আগে গত সপ্তাহে একজন রেল পুলিশ অফিসার মোদির নামে স্লোগান দিয়ে একজন সিনিয়র অফিসার ও তিনজন মুসলিমকে হত্যা করে। এই ঘটনা নিয়েও কোনো মন্তব্য করেননি মোদি। জেরাথ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাসা করেন যে, চুপ থাকলে তার কোনো ক্ষতি হবে না। তিনি তার সরকারের কাজের মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছাতে চান।

কয়েকজন পর্যবেক্ষক বলছেন, তার এই নীরবতা আসলে পরবর্তী নির্বাচনের জন্য এক ঢাল। কারণ বিজেপির চেয়ে মোদির জনপ্রিয়তা বেশি।

তবে জেরাথ মনে করেন, এখন আর মোদির এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এখন নীরব থাকাই বরং প্রধানমন্ত্রীর জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মনে করা হচ্ছে, তিনি এত বড় ঘটনায় কিছু অনুভব করতে পারছেন না।

হরিয়ানার বাইরে মণিপুরেও চলছে জাতিগত সংঘাত। চলতি বছর মে মাসে শুরু সংঘাতে দেড় শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে দুই মাস বন্ধ রাখা হয় ইন্টারনেট। এর মধ্যে হরিয়ানার সহিংসতার ঘটনায় নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে মোদি সরকার। সংসদে তার বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবে তাই তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে বলে মনে করেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা।

শেয়ার করতে চাইলে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ...
© বাংলা বাহন সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০১৯-২০২৩।
ডিজাইন ও আইটি সাপোর্ট: বাংলা বাহন
error: Content is protected !!