1. admin@banglabahon.com : Md Sohel Reza :
ইরানে হিজাব বিরোধী বিক্ষোভ জ্বলছেই, নিহত বেড়ে ৫৭
সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন

ইরানে হিজাব বিরোধী বিক্ষোভ জ্বলছেই, নিহত বেড়ে ৫৭

বিদেশ ডেস্ক
  • প্রকাশ: সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২

পুলিশি হেফাজতে ২২ বছর বয়সী মাহশা আমিনির মৃত্যু ঘিরে ইরানে টানা ১০ দিনের মতো বিক্ষোভ অব্যাহত। বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে সরকারিভাবে বলা হয়েছে, সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ৪১ জন নিহত হয়েছেন। কয়েকজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ছাড়া নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই বিক্ষোভকারী। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বেশি বলে বিভিন্ন সূত্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। আজ সোমবার গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন এই তথ্য জানিয়েছে।

নরওয়ে ভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) গ্রুপ গতকাল রোববার সন্ধ্যায় বলেছে, নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে। তবে চলমান ইন্টারনেট সেবা সরকারের পক্ষ থেকে বন্ধ করে দেওয়ায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

আইএইচআর-এর প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, তেহরানের রাস্তায় বিক্ষোভকারীরা রোববার রাতে স্বৈরশাসকের মৃত্যু বলে চিৎকার করছেন। দেশটিতে এই বিক্ষোভ দমাতে প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি অঙ্গীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, চক্রান্তকারী এই বিক্ষোভ উসকে দিচ্ছে। এছাড়া দেশটির সেনাবাহিনী বিক্ষোভ হটাতে হুঁশিয়ারি দেন।

হিজাব ঠিকমতো না পরার অভিযোগে ইরানের নৈতিক পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন মাহশা আমিনি। এরপর ১৬ সেপ্টেম্বর পুলিশি হেফাজতে তার মৃত্যু হয়। পরিবার ও বহু ইরানির দাবি, পুলিশের নির্যাতনে আমিনির মৃত্যু হয়েছে। যদিও পুলিশ এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে আমিনির মৃত্যুর পরেই হাজার হাজার মানুষ ইরানজুড়ে বিক্ষোভে নামে। দেশটির ৮০টির বেশি শহরে ছড়িয়ে পড়ে এই বিক্ষোভ।

গার্ডিয়ান বলছে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে শতশত বিক্ষোভকারী, অ্যাক্টিভিস্ট ও সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করেছে ইরানের বাহিনী। তবে এরপরেও ইরানজুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত আছে।

অনেক নারী বিক্ষোভকারী বিক্ষোভের সময় তাদের হিজাব খুলে পুড়িয়ে ফেলেন এবং তাদের চুলও কাটছেন। অনেকে আবার নারী, জীবন, মুক্তি বলে স্লোগান দিচ্ছিলেন।

এদিকে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ দেশটিকে বহু বছরের মধ্যে এবার মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, তারা যদি এখনই এর বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়ান তাহলে একদিন তাদেরও একই ভাগ্য বরণ করতে হতে পারে। দেশটিতে এমন সময়ে এই ঘটনা ঘটলো যখন ইরানের মানুষ এমনিতেই ক্ষুব্ধ।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের এলিট রাজনীতিকদের দুর্নীতি, ৫০ শতাংশের বেশি মুদ্রাস্ফীতির কারণে দারিদ্র বেড়ে যাওয়া, পারমাণবিক আলোচনায় অচলাবস্থা এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার অভাব তরুণদেরসহ একটি বিরাট জনগোষ্ঠীকে হতাশ করে তুলেছে।

ইরানের সোশ্যাল সিকিউরিটি অর্গানাইজেশন রিসার্চ ইন্সটিটিউটের মতে, দেশটির অন্তত আড়াই কোটি মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে এবং ক্রমশ এই সংখ্যা বাড়ছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে এটাই বিক্ষোভের নতুন কোনো ঘটনা নায়। কিন্তু অনেক পর্যবেক্ষকের মতে আগের যেকোনো ঘটনার তুলনায় এবারেরটায় ভিন্নতা আছে। সব কিছুর বাইরে-এটা নারীদের প্রতিবাদ।

ইরানে নাগরিক অধিকার রক্ষা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো অনেক দিন ধরেই দেশটিতে নারীদের ওপর দমন পীড়নের বিষয়টি তুলে ধরে আসছিলো। মূলত ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানি সমাজে নারীরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।

বিপ্লবের পরপরই নারীদের হিজাব পরতে বাধ্য করা হয় এবং তারা তাদের অনেক অধিকারও হারান। এর মধ্যে আছে ভ্রমণ ও কাজের অধিকার এবং সাত বছরের বেশি বয়সী সন্তানকে রাখার বিষয়ও আছে। ওই সময় এসব পরিবর্তনের বিষয়ে পুরুষদের দিক থেকে খুব একটা কথা শোনা যায়নি।

সুইডেনভিত্তিক ইরানি সমাজবিজ্ঞানী মেহরদাদ দারভিশপোর বলেন, এখন অনেক পুরুষ প্রতিবাদ বিক্ষোভে অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে যাতে বোঝা যাচ্ছে যে প্রগতিশীল দাবির প্রতি সমাজে পরিবর্তন এসেছে।

শেয়ার করতে চাইলে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ...
© বাংলা বাহন সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০১৯-২০২৪।
ডিজাইন ও আইটি সাপোর্ট: বাংলা বাহন
error: Content is protected !!