1. admin@banglabahon.com : Md. Sohel Reza :
শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ০১:০৭ পূর্বাহ্ন
আপনিও লিখুন:
‘বাংলা বাহন’ নিউজপোর্টালে আপনাদের মতামত, পরামর্শ, সমসাময়িক কোন বিষয়ে লেখা, বিশ্লেষণ, তথ্য, ছবি ও ভিডিও পাঠাতে পারেন banglabahonbd@gmail.com ঠিকানায়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম অনুসন্ধানী সাংবাদিক

বিদেশ ডেস্ক
  • প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ মার্চ, ২০২১

১৮৮৫ সালে ২১ বছর বয়সে পিটসবার্গ ডেসপ্যাচ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি লেখার সমালোচনা করতে গিয়ে সেখানেই নিয়োগ পান এলিজাবেথ জেন চকরান। পরে তার পেন নেম হয় নেলি ব্লি। ১৮৮৭ সালে নিউ ইয়র্ক ওয়ার্ল্ডে পাগল সেজে প্রথম অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কাজ করেন। এই প্রতিবেদনের পরই তিনি হয়ে ওঠেন পরিচিত মুখ। ন্যাশনাল জিওগ্রাফি অবলম্বনে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা

শুরুর কথা

১৮৮৫ সাল। পিটসবার্গের বিখ্যাত সংবাদপত্র পিটসবার্গ  ডেসপ্যাচ এ ‘What Girls Are Good For’ নামে একটি প্রতিবেদন ছাপানো হয়। যেখানে বলা হয় মেয়েদের মূল কাজ শুধু সন্তান জন্ম দেওয়া এবং বাড়ির কাজ করা। এই লেখার তিরস্কার করে ‘Lonely Orphan Girl’ ছদ্মনামে একটি মেয়ে সম্পাদক জর্জ ম্যাডেনের কাছে একটি চিঠি পাঠায়। সম্পাদক তার লেখার যুক্তি দেখে তাকে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে ডেকে আনেন অফিসে। অফিসে আসার পর তাকে এই ছদ্মনামেই পত্রিকার জন্য একটি লেখা লিখতে বলা হয়। তিনি ডেসপ্যাচে প্রথম প্রতিবেদন লেখেন The Girl Puzzle  শিরোনামে। এই লেখার মূল বিষয় ছিল ডিভোর্স কীভাবে নারীদের ওপর প্রভাব ফেলে। এমনকি লেখাতে তিনি ডিভোর্স আইনের বিরোধিতা করে আইন বদলানোর কথাও বলেন। ম্যাডেন আবারও তার লেখায় সন্তুষ্ট হন এবং তাকে বেতনভুক্ত হিসেবে নিয়োগ দেন। সে সময় নারীরা ছদ্মনামেই বেশি লিখতেন। সম্পাদক তার নাম বাছাই করলেন পিটসবার্গের গীতিকার স্টিফেন ফস্টারের লেখা গানের টাইটেল ‘নেলি ব্লি’। ছদ্মনামে লেখা সেই ২১ বছর বয়সী মেয়েটির নাম ছিল এলিজাবেথ জেন চকরান (Cochran)। যিনি ছিলেন আমেরিকার প্রথম অনুসন্ধানী সাংবাদিক। ইতিহাসে যার নাম লেখা আছে উজ্জ্বলভাবে।

সাংবাদিকতা জীবনে প্রথম পদক্ষেপ

পেনিসিলভানিয়ার পিটসবার্গে ১৮৬৪ সালের ৫ মে জন্ম নেন এলিজাবেথ। তার বাবা মাইকেল চকরান ছিলেন একজন শ্রমিক ও মিল ওয়ার্কার যিনি স্থানীয় মিলে কাজ করতেন। পরে তিনি মার্চেন্ট, পোস্টমাস্টার ও চকরান’স মিলে বিচারকের সহকারী হিসেবে কাজ করেন। দুই বিয়ে করা মাইকেল ছিলেন ১০ সন্তানের পিতা। প্রথম সংসারে জন্ম হয়েছিল এলিজাবেথের। ১৮৭১ সালে মাইকেল যখন মারা যান তখন তার বয়স মাত্র ছয় বছর।

ছোটবেলায় তিনি গোলাপি রঙের জামা বেশি পরতেন বলে তাকে সবাই ‘পিংকি’ বলে ডাকত। কৈশোরে তিনি নিজের ডাকনাম বদলে ভালো নামে পরিচিত হতে চাইলেন। এজন্য নামের শেষে যোগ করলেন চকরান নামটি। ১৮৭৯ সালে ইন্ডিয়ানা নরমাল স্কুলে ভর্তি হলেও ১৫ বছর বয়সে অর্থের অভাবে তাকে স্কুল ছাড়তে হয়। ১৮৮০ সালে পুরো পরিবারসহ মা তাদের নিয়ে চলে আসেন পিটসবার্গে। মায়ের সঙ্গে পাঁচ বছর চালাতে হয় একটি বোর্ডিং হাউজ। এত বছরের পরিশ্রমই মূলত তাকে সাংবাদিক হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করে তোলে। সাহস জোগায় কষ্ট করে পরিবার চালানো মানুষগুলোর জন্য কিছু করার। কাজ করার সময়েই ডেসপ্যাচ পত্রিকার সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়।

পিটসবার্গ ডেসপ্যাচ

লেখিকা জীবনের শুরুতে এলিজাবেথ চাকরিজীবী এবং বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন এমন নারীদের নিয়ে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন লেখা শুরু করেন। ‘উইম্যানস পেইজ’ নামে একটি পৃষ্ঠার ফ্যাশন, সমাজ ও বাগান বিষয়ক বিভিন্ন লেখার কাজও পান পরে। তবে নিয়মিত একই কাজ করতে গিয়ে বিমর্ষ হয়ে যাচ্ছিলেন। ২১ বছর বয়সেই তিনি চাচ্ছিলেন একদম ভিন্ন কিছু করতে। সেই লক্ষ্যেই কূটনৈতিক সংবাদদাতা হিসেবে মেক্সিকো যান। মেক্সিকান মানুষের জীবনধারা নিয়ে প্রায় ছয় মাস কাজ করেন। ১৮৮০-এর দশকে একা একটি মেয়ের এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঘটনা খুব একটা শোনা যেত না। তিনি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন। কৃষক ও শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করার সময় দুর্নীতি ও শোষণের বিষয়গুলো যখন সামনে এসেছে তখনই সেগুলো কর্র্তৃত্ববাদী সরকারের ক্ষোভকে উসকে দেয়। তাকে আটকের ভয় দেখিয়ে দেশছাড়া করা হয়। ফিরিয়ে আনা হয় পিটসবার্গে। আবারও যুক্ত হন ডেসপ্যাচের নারী বিভাগে কাজ করার জন্য।

ছয় বছর বয়সে বাবাকে হারানোর পর এলিজাবেথ ভীষণ রাগী, সাহসী ও স্বাবলম্বী হয়ে ওঠেন। কাজ শুরুর পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বুঝতে পারেন তার যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কম লেখাপড়া করা ছেলেদের তুলনায় তাকে বেশি বাধা পেরোতে হচ্ছে। নারীদের প্রতি যে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে সেটা বুঝতে শুরু করেন এলিজাবেথ। পিটসবার্গ ডেসপ্যাচে প্রথম প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়ার পর তিনি প্রশংসা কুড়ান। নিজেকে যোগ্য হিসেবে প্রমাণ করার পরও শুধু মেয়ে হওয়ার কারণে পুরুষ সহকর্মীদের চেয়ে তাকে অর্ধেক বেতন দেওয়া হয়। অথচ এরাই সব সময় নারী-পুরুষের সমতা নিয়ে কথা বলত। ভেতরে ভেতরে ভীষণ বিক্ষুব্ধ হন এলিজাবেথ। কাজের ক্ষেত্রে ভিন্নতা না থাকা এবং বেতন নিয়ে এমন অনিয়ম সবকিছু মিলিয়ে এখানে কাজ করতে আর ভালো লাগছিল না তার।

পাগল সাজ

থিয়েটার ও শিল্প নিয়ে একই ধরনের গৎবাঁধা লেখা লিখতে লিখতে বিরক্ত হয়ে যাচ্ছিলেন এলিজাবেথ। বুঝতে পেরেছিলেন এখানে কাজ করলে এভাবেই করে যেতে হবে। তাই ডেসপ্যাচ ছেড়ে দিয়ে ১৮৮৭ সালে নিউ ইয়র্কে চলে আসেন তিনি। চারমাস বেকার থাকার পর সুযোগ আসে নিউ ইয়র্ক ওয়ার্ল্ড সংবাদপত্রে যুক্ত হওয়ার। এলিজাবেথ যখন সাংবাদিকতার জন্য শহরে আসেন তখন এই মাধ্যমে বেশ নাটকীয় এক অবস্থা চলছিল। নিউ ইয়র্কের সংবাদপত্রগুলো পাঠক ধরার জন্য চাঞ্চল্যকর আর উত্তেজনামূলক খবর ছাপার চেষ্টা করত। এ জন্য বিভিন্ন পত্রিকায় সৃজনশীল হয়ে খবর সংগ্রহ করতে পারবে এমন সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছিল। বিভিন্ন অফিসে কাজ খুঁজতে খুঁজতে নিউ ইয়র্ক ওয়ার্ল্ড-এ চাকরিও পেয়ে যান। সংবাদপত্রের মালিক জোসেফ পুলিৎজার নতুন এই রিপোর্টারকে অদ্ভুত একটি অ্যাসাইনমেন্ট দেন।

নিউ ইয়র্কের ইস্ট নদীর ব্ল্যাকওয়েলস আইল্যান্ডের (বর্তমানে রুজভেল্ট আইল্যান্ড) নিউ ইয়র্ক সিটি লিউনেটিক অ্যাসাইলেমে তাকে কিছুদিন পাগল সেজে থাকতে হবে। আর সেখান থেকেই সংগ্রহ করে আনতে হবে চাঞ্চল্যকর কোনো সংবাদ। তাকে বলা হয়েছিল নারীদের ওয়ার্ডের অবস্থা নিয়ে লিখতে। পুলিৎজারকে এলিজাবেথ জিজ্ঞেস করেছিলেন, সেখান থেকে কীভাবে তাকে বের করা হবে। জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘আগে ভেতরে প্রবেশ করো’।

পরিকল্পনামতো এলিজাবেথ চলে গেলেন বোর্ডিং হাউজে। শুরু করলেন অভিনয়। নিলি ব্রাউন নামে কিউবান অভিবাসীর বেশ ধরলেন। পুরো বাড়ি দৌড়াতেন আর চিৎকার, চেঁচামেচি করতেন। পুলিশ ডাকা হলো। চিকিৎসক তাকে উন্মাদ বলে দিলেন। বিচারক তাকে বেলভিউ হাসপাতালের সাইক্রিয়াটিক ওয়ার্ডে ভর্তি করানোর অনুমতি দিলেন। সেখানে প্রাথমিক রোগ নির্ণয়ের পর নিশ্চিত করা হলো তার মানসিক অবস্থা স্বাভাবিক নয়। এরপরেই তাকে নিয়ে আসা হয় ব্ল্যাকওয়েলস আইল্যান্ডের ওয়ার্ডে।

অ্যাসাইলেমে এসে এলিজাবেথের নজরে প্রথমেই পড়ল, মানসিকভাবে অসুস্থ নারীরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুস্থ এমন নারীদের সঙ্গে একসঙ্গে থাকেন। এদের মধ্যে কয়েকজন অভিবাসী ছিলেন যারা আইনি ব্যবস্থায় ধরা পড়েছিলেন এবং কোনো ধরনের যোগাযোগ করার অবস্থা তাদের ছিল না। কয়েকজন বেশ দরিদ্র ছিলেন যাদের সাহায্য করার মতো পরিবারও ছিল না। এলিজাবেথের কাছে মানসিক হাসপাতালের চেয়ে দুর্ভাগাদের জন্য ওয়্যারহাউজই বেশি মনে হচ্ছিল এই জায়গাকে।

হাসপাতালের অবস্থা

এক হাজার রোগীর বন্দোবস্ত নিয়ে হাসপাতাল নির্মাণ করা হলেও ১৬০০ এর বেশি রোগী ততদিন সেখানে ছিল। এত রোগীর জন্য ছিল মাত্র ১৬ জন চিকিৎসক। অসুস্থদের সেবার জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হলেও প্রায়ই তারা নিষ্ঠুর আচরণ করত রোগীদের সঙ্গে। খাবার ও স্যানিটারি ব্যবস্থা ছিল ভয়াবহ। এর চাইতেও ভয়াবহ বিষয় ছিল, এদের মধ্যে কোনো নারীই তাদের মানসিক অবস্থা যে স্থিতিশীল সেটা বোঝানোর মতো কোনো অবস্থায় ছিল না। পরে নিজের লেখায় এলিজাবেথ লিখেছিলেন, ‘বিষয়টিকে বেআইনি বললেও ভুল হবে না। কারণ প্রতিটি মানুষের নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার সুযোগ পাওয়া উচিত।’

১০ দিন পর, সংবাদপত্রের উকিল তাকে বের করে নিয়ে আসার বন্দোবস্ত করেন। তার অভিজ্ঞতা দুই ভাগে নিউ ইয়র্ক ওয়ার্ল্ডে ১৮৮৭ সালের অক্টোবর মাসে প্রকাশিত হয়। লেখাটি পড়ে পাঠক বিস্মিত হয়। দ্রুত তদন্ত শুরু করা হয়। অল্প কিছুদিনের মধ্যে অনুদান জোগাড় করে সাইক্রিয়াটিক ওয়ার্ডের রোগীদের স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য কাজ শুরু করা হয়।

আমেরিকান সাংবাদিকতায় এই রিপোর্টই ছিল প্রথম আন্ডারকভার রিপোর্টের উদাহরণ। দুই অংশের সেই রিপোর্টটি এলিজাবেথকে তারকা বানিয়ে দেয়। এরপর থেকে ওয়ার্ল্ডের বিক্রি বাড়ানোর জন্য তার লেখা প্রতিবেদনগুলো হয়তো ‘Nellie Bly Buys a Baby’ অথবা বক্স ফ্যাক্টরিতে নিম্ন মজুরি পাওয়া নারীদের নিয়ে ‘Nellie Bly Tells How It Feels to Be a White Slave’ নামে লেখা হতো। মোট কথা তার প্রতিটি লেখার নিচে নাম দেওয়া থাকত যেন পাঠক আগ্রহ নিয়ে কেনে। অন্য একটি গল্পে তিনি লবিস্ট সেজে গ্রাহকদের ঘুষ দিতে বলতেন। সেই গল্পের শুরুতে লেখা হয়েছিল ‘গত সপ্তাহে আমি একজন লবিস্ট ছিলাম। এই অভিনয় করতে গিয়ে আমাকে প্রফেশনাল ঘুষদাতা হতে হয়েছিল। কাজটি করার জন্য গিয়েছিলাম আলবানিতে…’।

পরিচিতি

এলিজাবেথ ততদিনে আমেরিকায় বেশ পরিচিত নাম। তার কাজ ও সাহসিকতা দেখে অন্যান্য আমেরিকান পত্রিকা ততদিনে তাকে নিয়োগের কথা ভাবা শুরু করেছে। কিন্তু তিনি জায়গা পরিবর্তন করেননি। তার প্রতিটি কাজে উত্তেজনা আর সাহসিকতার ছোঁয়া থাকত। ১৮৮৯ সালের শরৎ মাসে, ওয়ার্ল্ড নতুন হেডকোয়ার্টার চালু করে। এ জন্য পুলিৎজার আরও বড় ও মনোযোগ আকর্ষণ করে এমন গল্প খুঁজছিলেন। ১৮৭৩ সালে জুলভার্নের লেখা নভেল Around the World in Eighty Days এর মূল চরিত্র ফিলিস ফগ ৮০ দিনে দুনিয়া ঘুরেছিলেন। এই রেকর্ড ভেঙে তা নিয়ে রিপোর্ট করার আগ্রহ জানান এলিজাবেথ। পুলিৎজার ভেবেছিলেন এই আইডিয়ায় কোনো পুরুষ ভালো কাজ করতে পারবে। এলিজাবেথের উত্তর ছিল, ‘খুব ভালো। আপনি কোনো পুরুষকে দিয়ে শুরু করুন। ঠিক একই দিন অন্য কোনো পত্রিকার সঙ্গে আমি একই বিষয় নিয়ে লিখব এবং তাকে হারিয়ে দেব।’ নিজের ভুল বুঝতে পারলেন পুলিৎজার।

১৮৮৯ সালের ১৪ নভেম্বর নিউ জার্সির হোবোকেন থেকে যাত্রা শুরু করেন এলিজাবেথ। জীবনের যত অভিজ্ঞতা তার আছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল ফ্রান্সে জুলভার্নের সঙ্গে তার দেখা হওয়া। ৬১ বছর বয়সী ভার্ন তাকে বলেছিলেন, ‘তুমি যদি ৭৯ দিনের মধ্যে কাজটি শেষ করতে পারো, আমি দুই হাতে তোমার জন্য তালি বাজাব।’ এই অভিবাদন তিনি পেয়েছিলেন। কারণ ৭২ দিনেই ঘুরে বেড়ানোর রেকর্ড করেন তিনি। বইয়ের চরিত্র ফিলিস ফগই যদিও তার এই রিপোর্টে মূল আগ্রহ জুগিয়েছিল। আর তাই তো তার চেয়ে আট দিন কমে ঘোরাঘুরি সম্পন্ন করতে বেশি আগ্রহী ছিলেন তিনি। ট্রেন, জাহাজ, রিকশা, ঘোড়া, এমনকি গাধার পিঠে চড়েও তিনি পাড়ি দিয়েছেন লন্ডন, ফ্রান্সের আমিনস, সুয়েজ, সিঙ্গাপুর, হংকং, ইয়োকোহামা, সানফ্রান্সিসকো। ১৮৯০ সালে জার্সি শহরে যেদিন তিনি ট্রেন থেকে নেমেছিলেন, সেদিন হাজারো মানুষ তাকে অভিবাদন জানায়। প্রতিদিন নিউ ইয়র্ক ওয়ার্ল্ডে তার লেখা ভ্রমণের গল্প পড়ার জন্য অপেক্ষা করত পাঠক। অন্যান্য যে কোনো খবরের চেয়ে তার লেখা পাঠক আগ্রহে উঠে আসে এক নম্বরে। ২৫ বছর বয়সে তিনি আমেরিকার প্রথম সাংবাদিক তারকা হয়ে ওঠেন।

নিউ জার্সিতে আসার কিছুদিন পর প্রকাশিত হয় এলিজাবেথের লেখা বই  Around the World in Seventy  Two Days। রিপোর্টিং-এর ওপর ভিত্তি করে লেখেন Ten Days in a Madhouse (প্রকাশিত কাল ১৮৮৭) এবং  Six Months in Mexico (প্রকাশকাল ১৮৮৮)। তার সাহিত্যিক সাফল্য ফিকশনে এসে ধরা দেয়নি। ১৮৮৯ সালে প্রকাশিত হয় তার একমাত্র এবং শেষ লেখা বই The Mystery of Central Park।

ব্যক্তিগত জীবন ও মৃত্যু

১৮৯৫ সালে ৭২ বছর বয়সী মিলিওনিয়ার রবার্ট সিম্যানকে বিয়ে করেন ৩০ বছর বয়সী এলিজাবেথ। রান্নাঘরের সামগ্রী এবং লোহা দিয়ে বানানো বিভিন্ন জিনিসের প্রস্তুতকারক ছিলেন রবার্ট। বিয়ের পর পার্টটাইম রিপোর্টিংয়ের কাজ করতেন এলিজাবেথ। ১৯০৪ সালে রবার্টের মৃত্যু হলে কোম্পানি চালানোর জন্য সাংবাদিকতা থেকে প্রায় ১০ বছরের বিরতি নেন। ব্যবসায় উন্নতিও হচ্ছিল। তিনি ব্যবসার পেটেন্টও কিনেছিলেন। কিন্তু হিসাবরক্ষক সব অর্থ আত্মসাৎ করায় দেউলিয়া হয়ে যায় প্রতিষ্ঠান।

১৯১৪ সালে প্রতিষ্ঠানের জন্য আর্থিক সহায়তা খুঁজতে এলিজাবেথ অস্ট্রিয়া যান। চার বছর পর, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পশ্চিম রণাঙ্গন থেকে সরাসরি যুদ্ধের সংবাদ প্রেরণ করা প্রথম নারী ছিলেন তিনি। নিউ ইয়র্কে ফিরে এসে তিনি আবারও প্রেসের জন্য লেখা শুরু করেন। কলাম লেখার মাধ্যমে মানুষকে কাজ ও বাড়ি খুঁজতে সহায়তা করতেন।

নিউ ইয়র্কে ১৯২২ সালের জানুয়ারি মাসে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান ৫৭ বছর বয়সী এলিজাবেথ। তার মৃত্যুর কয়েক বছর পর অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ও রিপোর্টিং ভীষণভাবে বদলে যায়। সাংবাদিকতায় এলিজাবেথের অগ্রণী ভূমিকা এবং অধ্যবসায় অন্যদের জন্য নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছিল।

সূত্র: দেশ রূপান্তর

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ...
© বাংলা বাহন সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২০-২০২১।
ডিজাইন ও আইটি সাপোর্ট: বাংলা বাহন