1. admin@banglabahon.com : Md. Sohel Reza :
নীতিমালার অভাবে স্থবির পরিকল্পিত নগর উন্নয়ন | বাংলা বাহন
বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন
আপনিও লিখুন:
‘বাংলা বাহন’ নিউজপোর্টালে আপনাদের মতামত, পরামর্শ, সমসাময়িক কোন বিষয়ে লেখা, বিশ্লেষণ, তথ্য, ছবি ও ভিডিও পাঠাতে পারেন info@banglabahon.com ঠিকানায়।

নীতিমালার অভাবে স্থবির পরিকল্পিত নগর উন্নয়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ মার্চ, ২০২১
ছবি: মতিঝিল শাপলা চত্ত্বর। -গুগল

দেশের নগরায়ণে শৃঙ্খলা নেই। মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি বড় শহর পরিকল্পিত উন্নয়নের আওতায় এলেও বেশির ভাগ এলাকা উপেক্ষিত। এ বিষয়ে নীতিমালা ও আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দ্বন্দ্বে সব আটকে আছে। এটি এখনো সংশোধন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। নীতিমালা, আইন ও মাস্টারপ্ল্যানের অভাবে নগরায়ণ বিশৃঙ্খলভাবে ঘটছে।

জানা যায়, দেশের নগর অঞ্চলে পরিকল্পিত উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০০৪ সালে একটি ‘নীতিমালা’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। পরিবর্তন, পরিমার্জন ও সংশোধন করে ২০১৪ সালে এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। এটি নগর উন্নয়ন নীতিমালা ২০১৪ নামে পরিচিত। এটা প্রণয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং পেশাজীবীরা। এটি তিন দফায় মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। এ ব্যাপারে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বাধায় দফায় দফায় সংশোধন করতে হয়েছে। এটি এখনো সংশোধন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে বিশৃঙ্খল নগরায়ণ রুখতে নগর উন্নয়ন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এটি নগর অঞ্চল ও পরিকল্পনা আইন-২০১৭ নামে পরিচিত। কিন্তু এ মন্ত্রণালয়ের আইন প্রণয়নের উদ্যোগ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ভালোভাবে নেয়নি। এ কারণে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় ওই মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংশোধন, মতামত ও পরামর্শ চূড়ান্ত হচ্ছে না।

সূত্রমতে, ঢাকা থেকে গ্রাম পর্যন্ত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কাঠামো রয়েছে। এ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩২৮টি পৌরসভা, ৪৯২টি উপজেলা, চার হাজার ৫৭১টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। দেশজুড়ে পরিকল্পিত নগর উন্নয়ন আইন বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালনে সক্ষম প্রতিষ্ঠান স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। আর মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের জন্য সক্ষম গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এ মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠান নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর। এ প্রতিষ্ঠানের একমাত্র কাজই হলো পৌরসভা, উপজেলার মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনাবিদের সংখ্যা ২০ জন। এ ছাড়া স্থাপত্য অধিদপ্তরও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত। এ প্রতিষ্ঠানে স্থপতির সংখ্যা ৭২ জন।

এ প্রসঙ্গে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার বলেন, ‘স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে প্রণয়ন করা হচ্ছে ‘নগর উন্নয়ন নীতিমালা-২০১৪’। আর গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে প্রণীত হলো নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা আইন-২০১৭। এ দুটি সম্পূরক বিষয়, সাংঘর্ষিক নয়।’ তিনি বলেন, ‘নগর উন্নয়ন নীতিমালা-২০১৪ অনুমোদিত হলেও তার দিকনির্দেশনাও দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো অনুসরণ করে চলবে। তবে এ ক্ষেত্রে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের বিষয়টি সেখান থেকে বাদ দিতে হবে। কেননা, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর। এ প্রতিষ্ঠানে পরিকল্পনাবিদ রয়েছে তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল, পৌরসভা, উপজেলার মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নে কাজ করে। নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা আইন-২০১৭ অনুমোদিত হলে এ মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সব পৌরসভা ও উপজেলার মাস্টারপ্ল্যান করে দেওয়া হবে। আর স্ব স্ব পৌরসভা, উপজেলা বা অন্য কর্তৃপক্ষ সেসব মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করবে।

এ বিষয়ে নগর উন্নয়ন নীতিমালা-২০১৪ প্রণয়ন কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বাধীন সংস্থা বাংলাদেশ আরবান ফোরামের সদস্য সচিব মোস্তফা কাইয়ুম খান বলেন, দেশের নগর অঞ্চলের বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে ২০০৪ সালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় নগর উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন কাজ শুরু করে। এটি তিনবার মন্ত্রিসভা কমিটিতে উত্থাপন করা হয়। সেখান থেকে নানা ধরনের সংশোধনী দেওয়া হয়, যেটা অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নগর উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও গৃহায়ণ এবং গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সরাসরিভাবে জড়িত। রাজধানী শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত এ মন্ত্রণালয়ের কাঠামো রয়েছে। অন্যদিকে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ কারণে দুটি মন্ত্রণালয়কে নেতৃত্বে রেখে এ নীতিমালা প্রণয়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু, এর মধ্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় স্বতন্ত্রভাবে আইন প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলভাবে নগরায়ণ ঘটছে। এর লাগাম টেনে ধরতে একটি নীতিমালা, আইন ও বিধিমালা খুবই দরকার। এটি একটি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমেও হতে পারে। তবে পৃথক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে হলেও তাতে দোষের কিছু নেই। কেননা, যে মন্ত্রণালয় আইন প্রণয়ন করে কর্তৃত্ব তো শুধু তাদের হাতে থাকে না। দায়িত্ব ও কর্তব্য অনুযায়ী স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান সেসব বাস্তবায়ন করে থাকে। তিনি বলেন, ‘বিল্ডিং কোড গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় প্রণয়ন করেছে। সেখানেই বলা আছে, যেখানে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সেখানে এটার বাস্তবায়ন করবে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা অন্যসব দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান। তবে পরিকল্পিত নগর উন্নয়নের লক্ষ্যে নগর ও অঞ্চল আইন, নীতিমালা ও বিধিমালা বাস্তবায়নের প্রধান মন্ত্রণালয় হলো স্থানীয় সরকার। কেননা, এ মন্ত্রণালয়ের শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত কাঠামো রয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টের (আইএবি) সাবেক সভাপতি স্থপতি জালাল আহমেদ বলেন, দেশের বিশৃঙ্খল নগরায়ণ ঠেকাতে এ সংক্রান্ত আইন, নীতিমালা ও বিধিমালা প্রণয়ন করা খুবই জরুরি। এটা গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে হতে পারে। আর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যার যেটুকু দায়িত্ব সে সংস্থা সেটুকু পালন করবে। এটা নিয়ে কোনো ধরনের জটিলতা থাকলে সেটা নিরসন করে নীতিমালা ও আইনকে চূড়ান্ত রূপ দান করা উচিত।

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ...
© বাংলা বাহন সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০১৯-২০২১।
ডিজাইন ও আইটি সাপোর্ট: বাংলা বাহন