1. admin@banglabahon.com : Md Sohel Reza :
ডেঙ্গুজ্বরে গর্ভবতীর ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক থাকুন
সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন

ডেঙ্গুজ্বরে গর্ভবতীর ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক থাকুন

ডা. আরিফা শারমিন মায়া
  • প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত স্বাস্থ্য সমস্যা হচ্ছে ডেঙ্গুজ্বর। আর যদি গর্ভাবস্থায় কোনো মা এ রোগে আক্রান্ত হন, তবে সেক্ষেত্রে জটিলতার অর্থ হলো মা ও শিশু উভয়ে ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ রোগের বেশিরভাগ (৮০%) ক্ষেত্রে তেমন উপসর্গ থাকে না। তবে ২০ শতাংশ উপসর্গ অনুযায়ী রোগটিকে ডেন ১, ডেন ২, ডেন ৩ ভাগে ভাগ করা হয়।

উপসর্গ : উচ্চ তাপমাত্রা, হাড্ডি ভেঙে যাচ্ছে- এমন ব্যথা অনুভূত হওয়া কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাসের গঠনতন্ত্রের পরিবর্তনে (মিউটেশন) উপসর্গের ধরনও পাল্টে গিয়েছে। এ অবস্থায় জ্বর না থাকলেও পেটব্যথা, ডায়রিয়া, বমি হতে পারে।

রোগ নির্ণয় : রোগীর উপসর্গ অনুযায়ী রক্তের কিছু পরীক্ষা করা খুব জরুরি। পরীক্ষাগুলো হলো-

Dengue NS1 Antigen : জ্বরের ১ থেকে ৫ দিনের মধ্যে করাতে হবে। CBC, HCT, WBC count (শ্বেত রক্তকণিকা) পরীক্ষাগুলো করাতে হবে।

Dengue IgM & IgG antibodz : জ্বরের ৫-৭ দিনের মধ্যে করতে হবে। রক্তে হেমাটোক্রিট যদি ২০ শতাংশ বেড়ে যায়, পালস প্রেসার (সিস্টোলিক ও ডায়াস্টলিক) যদি কমে আসে (১০-২০%), শ্বেত রক্তকণিকা ৫০০০ নিচে নেমে আসে, রক্তের অনুচক্রিকা (প্লাটিলেট) ১ লাখের নিচে থাকে, তা হলে ধরে নিতে হবে তার রক্তক্ষরণ হচ্ছে। একে বলে ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার। গর্ভাবস্থায় এমনিতে রক্তরসের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় প্রেসার কম থাকে, আবার নিচের রক্তচাপ কম থাকায় পালস প্রেসার একটু বেশি থাকে, তখন ডেঙ্গু নির্ণয় করতে সমস্যা হয়। তাই পরপর কয়েকটি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

গর্ভাবস্থায় ডেঙ্গুর প্রভাব : যদি গর্ভের প্রথম দিকে আক্রান্ত হয়, তবে গর্ভপাত হওয়ার ঝুঁকি থাকে (৩-১৩%)। জন্মগত ত্রুটি তেমন পাওয়া যায় না। তবে ব্রেইনের গঠনগত সমস্যা হতে পারে। গর্ভের মধ্য বা শেষভাগে হলে সময়ের আগে পানি ভেঙে যাওয়া, সময়ের আগে ডেলিভারি হওয়া (৩-৩৩%) শিশুর ওজন কম হওয়া (৯-১৬%), এমনকি পেটের সন্তান মরেও যেতে পরে (৪.৭-১৯%)। ডেলিভারির সময় শিশু এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। মায়ের প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ (ডেলিভারির আগে বা পরে যোনিপথে রক্তক্ষরণ) এমনকি শকে মায়ের মৃত্যু হতে পরে। এছাড়া গর্ভাবস্থায় শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনে দ্রুত ডেঙ্গু শক সিনড্রোম ও একইসঙ্গে অনেক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

চিকিৎসা : জ্বর ও ব্যথা প্রশমন করতে হবে। প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খাবে কিন্তু কোনো অ্যাসপিরিন বা ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া যাবে না। বেশি করে তরল জাতীয় খাবার খেতে হবে (স্যালাইন, শরবত, ফলের রস, ভাতের মাড়, ডাবের পানি ইত্যাদি)। প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করতে হবে। ঠিকমতো প্রস্রাব হচ্ছে কিনা, খেয়াল রাখতে হবে। অবশ্যই গর্ভবতী মাকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে (মৃদুজ্বর বা উপসর্গ দেখা না দিলেও)। ক্রিটিকাল বা বিপজ্জনক সময়ে বেশি সচেতন থাকতে হবে। সাধারণত জ্বরের পঞ্চম থেকে ৬ষ্ঠ দিন যখন জ্বর ছাড়তে শুরু করে (কখনো তৃতীয় দিন থেকে শুরু হয়), সেই সময় কোষ থেকে ফ্লুইড বের হতে থাকে এবং ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এ সময় শরীরে পানি বা ফ্লুইড পরিমিত পরিমাণে যেন থাকে, তা খেয়াল করতে হবে। সপ্তম দিন অর্থাৎ বিপজ্জনক সময়ের পরপরই আবার কোষে পানি আসা শুরু হয়। তাই তখন ফ্লুইড অতিরিক্ত দেওয়া যাবে না। দিলে ফুসফুসে পানি জমে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। অনেকে প্লাটিলেট নিয়ে বেশি চিন্তিত থাকেন। এটির ভূমিকা কিন্তু খুবই কম। যেসব কারণ দেখে চিকিৎসকরা রক্তের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন তা হলো- মারাত্মকভাবে কাউন্ট কমে গেছে এবং সেই রোগীর অপারেশন দরকার অথবা ক্লিনিক্যাল অবস্থা দেখে চিকিৎসক যদি প্রয়োজন মনে করেন। সিঙ্গেল ডোনার রেখে দেওয়া ভালো।

রক্ত দেয়ার প্রয়োজনীয়তা : তাজা রক্ত (whole blood/packed) যা সংগ্রহের ৫ দিনের মধ্যে দিতে হবে। নরমাল ডেলিভারির সময় প্লাটিলেট ৫০ হাজার আর সিজারিয়ান অপারেশনের সময় ৭৫ হাজার থেকে ৮০ হাজার। কোনো কোনো গাইডলাইন বলছে, অপারেশনের সময় ৫০ হাজার থাকলেও চলে। তবে মনে রাখতে হবে, একান্ত প্রয়োজন না হলে ক্রিটিকাল ফেইজে কোনো ধরনের সার্জিকাল ইন্টারভেনশন বা অপারেশনে যাওয়া উচিত নয়।

লেখক : ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভরোগ বিশেষজ্ঞ
ও কনসালট্যান্ট, ফিটোমেটারনাল মেডিসিন ইউনিট, প্রসূতি ও গাইনি বিভাগ
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল
চেম্বার : আল-রাজী হাসপাতাল, ফার্মগেট, ঢাকা
০১৭৫৬১৭৩৭৬৫, ০১৮৩৮৪২৬০৬৫

শেয়ার করতে চাইলে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ...
© বাংলা বাহন সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০১৯-২০২৪।
ডিজাইন ও আইটি সাপোর্ট: বাংলা বাহন
error: Content is protected !!