1. admin@banglabahon.com : Md. Sohel Reza :
চিকিৎসাকর্মীদের সম্মানী-বীমায় ৮৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ -প্রধানমন্ত্রী | বাংলা বাহন
বৃহস্পতিবার, ০৫ অগাস্ট ২০২১, ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন
আপনিও লিখুন:
‘বাংলা বাহন’ নিউজপোর্টালে আপনাদের মতামত, পরামর্শ, সমসাময়িক কোন বিষয়ে লেখা, বিশ্লেষণ, তথ্য, ছবি ও ভিডিও পাঠাতে পারেন info@banglabahon.com ঠিকানায়।

চিকিৎসাকর্মীদের সম্মানী-বীমায় ৮৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ -প্রধানমন্ত্রী

বাংলা বাহন ডেস্ক:
  • প্রকাশ: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২০
ছবি: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, চিকিৎসক, নার্সসহ অন্য স্বাস্থ্যকর্মীরা মৃত্যুঝুঁকি উপেক্ষা করে সামনের কাতারে থেকে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, আপনাদের পেশাটাই চ্যালেঞ্জের। এই ক্রান্তিকালে মনোবল হারাবেন না। গোটা দেশবাসী আপনাদের পাশে রয়েছে। এ সময় বেশি ঝুঁকি নিয়ে যারা কাজ করছে তাদের বিশেষ সম্মানী ও বীমার জন্য ৮৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলা নববর্ষ ১৪২৭ উপলক্ষে সোমবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসকসহ সব চিকিৎসাকর্মীকে বলেন, আমি দেশবাসীর পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। যেসব সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী প্রত্যক্ষভাবে করোনাভাইরাস রোগীদের নিয়ে কাজ করছেন তাদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাদের বিশেষ সম্মানী দেয়া হবে। এজন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, সশস্ত্র বাহিনী ও বিজিবি সদস্য এবং প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য কর্মচারীর জন্য বীমার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনকালে যদি কেউ আক্রান্ত হন তবে পদমর্যাদা অনুযায়ী প্রত্যেকের জন্য থাকছে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকার স্বাস্থ্যবীমা। মৃত্যুর ক্ষেত্রে এর পরিমাণ ৫ গুণ বৃদ্ধি পাবে। স্বাস্থ্যবীমা ও জীবন বীমা বাবদ রাখা হচ্ছে ৭৫০ কোটি টাকা।

দেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে এবার ঘরে বসেই নববর্ষের আনন্দ উপভোগ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যে আঁধার আমাদের চারপাশকে ঘিরে ধরেছে, তা একদিন কেটে যাবেই। বৈশাখের রুদ্র রূপ আমাদের সাহসী হতে উদ্বুদ্ধ করে। মাতিয়ে তোলে ধ্বংসের মধ্য থেকে নতুন সৃষ্টির নেশায়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে করোনাভাইরাস সংকট মোকাবেলায় সবাইকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। এ ভাইরাসের কারণে অর্থনীতির ওপর যে প্রভাব পড়তে যাচ্ছে তা কাটাতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য বিরূপ প্রভাব উত্তরণে চারটি মূল কার্যক্রম নির্ধারণ করেছি। যা চলতি অর্থবছরের অবশিষ্ট তিন মাসে, স্বল্পমেয়াদে- আগামী অর্থবছরে এবং মধ্যমেয়াদে- পরবর্তী তিন অর্থবছরে এই তিন পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হবে।

সুরক্ষা সরঞ্জামের কোনো ঘাটতি নেই বলে চিকিৎসকদের আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নিজেকে সুরক্ষিত রেখে স্বাস্থ্যকর্মীরা সর্বোচ্চ সেবা দেবেন, এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা। একইসঙ্গে সাধারণ রোগীরা যাতে কোনোভাবেই চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকে নজর রাখার জন্য প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে নিয়োজিত পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী, রোগী আনা-নেয়ার কাজে এবং মৃত ব্যক্তির দাফন ও সৎকারের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মীসহ জরুরি সেবা কাজে যারা নিয়োজিত রয়েছেন, তাদেরও ধন্যবাদ জানান সরকারপ্রধান।

প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, আপনারা ভয় পাবেন না। ভয় মানুষের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে। কেউ আতঙ্ক ছড়াবেন না। আমাদের সবাইকে সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হবে। সরকার সব সময় আপনার পাশে আছে। কিছু কিছু স্বার্থান্বেষী মহল গুজব ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এ সংকটকালে এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না। মিডিয়াকর্মীদের প্রতি অনুরোধ, দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সঠিক তথ্য তুলে ধরে এই মহামারী মোকাবেলা করতে আমাদের সহায়তা করুন।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেন, বাঙালির সর্বজনীন উৎসব বাংলা নববর্ষ। প্রতিটি বাঙালি এই উৎসব আনন্দ-উল্লাসের মধ্য দিয়ে উদযাপন করেন। এ বছর বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে পহেলা বৈশাখের বহিরাঙ্গনের সব অনুষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এটা করা হয়েছে বৃহত্তর জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে। কারণ ইতোমধ্যেই এই ভাইরাস আমাদের দেশেও ভয়াল থাবা বসাতে শুরু করেছে। এর আগে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর উদ্বোধন অনুষ্ঠান এবং স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানও জনসমাগম এড়িয়ে রেডিও, টেলিভিশন এবং ডিজিটাল মাধ্যমে সম্প্রচার করা হয়েছে। পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানও আমরা একইভাবে উদযাপন করব।

এ সময় করোনাভাইরাসের কারণে গোটা বিশ্ব আজ অর্থনৈতিক মন্দার সম্মুখীন হতে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থা যে আভাস দিচ্ছে তা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এই রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে কোয়ারেন্টিন বা সঙ্গনিরোধ। অর্থাৎ নিজেকে ঘরবন্দি করে রাখা। বিশ্বের ২৫০ কোটিরও বেশি মানুষ আজ ঘরবন্দি। কোথাও লকডাউন, কোথাও গণছুটি আবার কোথাও কারফিউ জারি করে মানুষকে ঘরবন্দি করা হয়েছে। বাংলাদেশেও ২৫ মার্চ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত একটানা ৩২ দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। জরুরি সেবা কার্যক্রম ছাড়া সবকিছু বন্ধ। আজ দেশের সিংহভাগ শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ছোটখাটো কারখানা বন্ধ।

তিনি আরও বলেন, গণপরিবহন ও বিমান চলাচল স্থগিত। আমাদের আমদানি-রফতানির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে বেশির ভাগ দেশে প্রবাসী ভাইবোনরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। স্থবিরতা নেমে এসেছে রেমিটেন্স প্রবাহে। আমরা বিশ্ব ব্যবস্থার বাইরে নই। বিশ্বের অর্থনৈতিক মন্দার ধাক্কা আমাদের অর্থনীতির জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমরা জানি না, এই সংকট কতদিন থাকবে এবং তা আমাদের অর্থনীতিকে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তবুও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা ইতোমধ্যে ৯৫ হাজার ৬১৯ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি, যা জিডিপি’র ৩ দশমিক ৩ শতাংশ।

সম্ভাব্য বিরূপ প্রভাব উত্তরণে চারটি মূল কার্যক্রম : ভাষণে প্রধানমন্ত্রী করোনাভাইরাসের কারণে অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য বিরূপ প্রভাব উত্তরণে চারটি মূল কার্যক্রম নির্ধারণের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। এক. সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি করা : সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে ‘কর্মসৃজনকেই’ প্রাধান্য দেয়া হবে। দুই. আর্থিক সহায়তার প্যাকেজ প্রণয়ন : অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরুজ্জীবিত করা, শ্রমিক-কর্মচারীদের কাজে বহাল রাখা এবং উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অক্ষুণ্ন রাখাই হল আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের মূল উদ্দেশ্য। তিন. সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি : দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী জনগণ, দিনমজুর এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত জনসাধারণের মৌলিক চাহিদা পূরণে বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি করা হবে। চার. মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধি করা : অর্থনীতির বিরূপ প্রভাব উত্তরণে মুদ্রা সরবরাহ এমনভাবে বৃদ্ধি করা যেন মুদ্রাস্ফীতি না ঘটে।

কৃষি উৎপাদন বাড়াতে হবে : প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দুঃসময়ে আমাদের কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা শুধু সচল রাখা নয়, আরও জোরদার করতে হবে। সামনের দিনগুলোতে যাতে কোনো প্রকার খাদ্য সংকট না হয়, সেজন্য আমাদের এক খণ্ড জমিও ফেলে রাখা চলবে না। এজন্য কৃষিসংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বীজ, সার, কীটনাশকসহ সব ধরনের কৃষি উপকরণের ঘাটতি যাতে না হয় এবং সময়মতো কৃষকের হাতে পৌঁছে সে ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। কৃষি খাতে চলতি মূলধন সরবরাহের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠনসহ অন্যান্য উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

এ মুহূর্তে দেশে খাদ্যের কোনো সংকট নেই জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের মহামারী থেকে আমাদের বাঁচতে হবে। আমরা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি। যখন যে ব্যবস্থা নেয়া দরকার তা নেয়া হচ্ছে। এ মুহূর্তে আমাদের কোনো খাদ্য সংকট নেই। সরকারি গুদামে যেমন পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার মজুদ রয়েছে, তেমনি রয়েছে গৃহস্থদের ঘরে ঘরে। রোপা আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। চলতি মৌসুমে বোরো ধানেরও ভালো ফলন হওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। খাদ্য ও কৃষিপণ্য সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থা অটুট রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ...
© বাংলা বাহন সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০১৯-২০২১।
ডিজাইন ও আইটি সাপোর্ট: বাংলা বাহন