1. admin@banglabahon.com : Md. Sohel Reza :
বুধবার, ১২ মে ২০২১, ১১:২৯ অপরাহ্ন
আপনিও লিখুন:
‘বাংলা বাহন’ নিউজপোর্টালে আপনাদের মতামত, পরামর্শ, সমসাময়িক কোন বিষয়ে লেখা, বিশ্লেষণ, তথ্য, ছবি ও ভিডিও পাঠাতে পারেন banglabahonbd@gmail.com ঠিকানায়।

কোভিড-১৯ সব কিছু তছনছ করে দিচ্ছে

রহমান মৃধা, সুইডেন
  • প্রকাশ: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২০

একা একা আর কিছু ভালো লাগছে না। কোন কাজেও তেমন মন বসছে না। কারণ আজকাল সবাই বেশ উদাসীন, দিশাহারা এবং আশাহত। আমিও সঠিকভাবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছি না। জন্মের শুরুতে শুনেছি, পড়েছি, শিখেছি এবং বলেছি যে বিপদে সংঘবদ্ধ হতে হবে, পরস্পর পরস্পরের পাশে থাকতে হবে।

এক জামাতে বসে ধর্মীয় অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে মিটিং মিছিলে একত্র হয়ে ভালোবাসার সেতু তৈরি করতে হবে ইত্যাদি। পৃথিবীর জন্মের শুরু থেকে একটিই চেষ্টা আমরা মানুষ জাতি করে আসছি তা হলো, কীভাবে মিলেমিশে একত্রে বসবাস করা যায়।

আর তার জন্যই আমরা সারাজীবন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যদিও আমাদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও আমরা সে সুযোগের সদ্ব্যবহার এত যুগ ধরে সঠিকভাবে করতে ব্যর্থ হয়েছি। তারপরও এক সঙ্গে মিলেমিশে সুন্দর পরিবেশে থাকার বাসনা আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় চাওয়া পাওয়া।

এখন হঠাৎ এক ক্ষুদ্র এবং ভয়ঙ্কর একটি ভাইরাস যাকে চোখে দেখা যায় না, তবে তার নাম শুনেছি। আমাদের শরীরে ঢুকে জীবন নাশ পর্যন্ত করে দিচ্ছে। আমাদের এত দিনের একটি অ্যাচিভমেন্ট যেমন আমরা একত্রে বসবাস করতে শিখেছি তাও এখন লণ্ডভণ্ড হতে চলেছে। যার কারণে এখন একা একা বাসায় বসে সময় কাটাতে হচ্ছে, দূরে থাকতে হচ্ছে, দেশ বিদেশ ঘোরাঘুরি বন্ধ হয়েছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রুগীর আশপাশে থাকা যাচ্ছে না ইত্যাদি।

এই সামান্য একটি ভাইরাস যার মধ্যে রয়েছে এক অসাধারণ ক্ষমতা, যেটা মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ধনী, গরীব, পুরুষ, মহিলা বা ধর্মের বিচার করছে না। যাকে পারছে তাকে ধরছে। যখন খুশি তখন ধরছে। বাকি যাদেরকে এখনও ধরেনি তারাও আতঙ্কের মধ্যে জীবন কাটাচ্ছে।
নতুন এই সমস্যা এসেছে পৃথিবীতে অথচ সমাধান নেই। যার কারণে সবার মধ্যে এই আতঙ্ক বিরাজ করছে। আমরা মানুষ জাতি বেশ মজার জীব। বিপদে আমাদের পাওয়া আগেও যেমন কঠিন ছিল এখনও সেই একই অবস্থা হয়েছে। বিষয়টি কি ভাবনার নয়? এখন যেমন বলা হচ্ছে পরস্পর পরস্পর থেকে দূরে থাকতে।

লকডাউন করা হয়েছে যাতে করে আমরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত না হই এবং অন্যকে আক্রান্ত না করি। আমাদেরকে আলাদাভাবে থাকতে বলা হচ্ছে। অথচ হাজার চেষ্টা করেও এখন আমাদেরকে ঘরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা জেনেছি যে এটা একটি ছোঁয়াচে রোগ সত্ত্বেও সুযোগ পেলেই লকডাউনের নিয়ম ভঙ্গ করছি, কী আশ্চর্য!

মনে পড়ে গেল বানরের ফুলের মালা গাঁথার গল্পটি। বানর সারাদিন বকুল ফুলের মালা গেঁথে মালাটিকে তুলে ধরতেই তা ঝড় ঝড় করে ঝরে পড়ে গেল। সামান্য একটি গিঁট না দেবার কারণে বানরের সব পরিশ্রম বৃথা হয়ে গেল। বানর না হয় বন্যপশু, ভুলের কারণে বা জ্ঞানের অভাবে ক্ষতির মাশুল মেনে নিল।

কিন্তু আমরা মানুষ জাতি, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব, তা সত্ত্বেও সামান্য একটি ভাইরাস আমাদের ওপর এত বড় বাটপারি করে দিব্বি আমাদের সাজানো গোছানো সংসার, সমাজ, দেশ এমনকি গোটা বিশ্বকে তছনছ করে দিচ্ছে।

কোভিড-১৯ এবং সাধারণ সর্দি-জ্বরের লক্ষণ একই রকম এবং দুটোর কারণেই কিন্তু নিউমোনিয়া হতে পারে। তারপরও কোভিড-১৯ এ পৃথিবীর মানুষ বেশি আতঙ্কিত। সেক্ষেত্রে বলা যেতে পারে মানুষের মতো দেখতে হলেই যে মানুষ হবে তেমন কোনো কথা নেই। চেহারায় দানব আর মানব দেখতে এক রকম হলেও কর্মে তারা ভিন্ন। যেমন সেই ১৯৭১ সালের যুদ্ধের শেষে রিলিফের সব ত্রাণ তৎকালীন নেতাকর্মীদের দায়িত্বে দেয়া হলো যাতে করে সঠিকভাবে দেশের জনগণ সেগুলো পায়। দেখা গেল তারা সব চুরি করে নিজেদের পরিবার এবং দলীয় লোকের মধ্যে বিতরণ করলো। গরীবের পেটে লাথি মেরে ত্রাণ চুরি করে বড় লোক হলো।

এবার ঠিক পঞ্চাশ বছর পরে কোভিড-১৯ এর দুর্যোগের সময় চাল, ডাল, তেল চুরি করে বর্তমান নেতা কর্মীরা ঠিক ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করছে। মনে হচ্ছে সেই পঞ্চাশ বছর আগে যে চোরের বীজ বপন করা হয়েছিল তাদের সংখ্যা বর্তমানে পঞ্চাশ গুণ বেশি হয়েছে।

আল্লাহ পাক আদম এবং হাওয়াকে সৃষ্টি করে বললেন, বেহেস্তে থাকো। যা কিছু খাবার খাও, যা কিছু করার কর, মজা কর, আনন্দ ফুর্তি কর, শুধু গন্ধম ফলটা খেও না। আদম এবং হাওয়া কী করলেন? ঠিক সেই ফলটাই খেলেন। আমরা মানুষ জাতি, আমাদের পূর্বপুরুষরা যে ভুল করেছে আমরাও ঠিক তাই করছি। করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ থেকে যদি কোন শিক্ষা গ্রহণ করতে না পারি তবে বলবো, স্বভাব যায় না মলে আর খাসলত যায় না ধুলে।

রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে, rahman.mridha@gmail.com

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ...
© বাংলা বাহন সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২০-২০২১।
ডিজাইন ও আইটি সাপোর্ট: বাংলা বাহন