1. admin@banglabahon.com : Md. Sohel Reza :
কোন খাবারের বাড়ি কোথায় | বাংলা বাহন
বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন
আপনিও লিখুন:
‘বাংলা বাহন’ নিউজপোর্টালে আপনাদের মতামত, পরামর্শ, সমসাময়িক কোন বিষয়ে লেখা, বিশ্লেষণ, তথ্য, ছবি ও ভিডিও পাঠাতে পারেন info@banglabahon.com ঠিকানায়।

কোন খাবারের বাড়ি কোথায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
  • প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ জুন, ২০২১

অ্যাভোকাডো

অ্যাভোকাডো কোনো সবজি নয়, মূলত এটি একটি ফল। সালাদে বা বিভিন্ন খাবারে ব্যবহার করা এই ফলগুলোর সর্বপ্রথম চাষের উৎস নিয়ে বেশ কিছু গবেষণা করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, মেক্সিকো চাষের মাতৃভূমি সাউথ সেন্ট্রাল মেক্সিকোর পিউব্লাতে। এই এলাকাতেই আজ থেকে ১০ হাজার বছর আগে মজাদার আর অদ্ভুদ স্বাদের এই ফলটির উদ্ভাবন হয়। সেখান থেকেই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। পাঁচ হাজার বছর আগে মেসোআমেরিকান উপজাতিরা স্থানীয়ভাবে অ্যাভোকাডো গাছ লাগানো শুরু করে। ইতিহাস মতে, চাকার উদ্ভাবনের সময় থেকে অ্যাভোকাডোর উৎপাদন শুরু হয়েছে। মেসোআমেরিকানদের বিশ্বাস ছিল, বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে এই ফলের কিছু পৌরাণিক শক্তি আছে। প্রাচীন মায়া সভ্যতায় ক্যালেন্ডার দেখে এই ফলের চাষ করা হতো। বিশ্বাস ছিল, এই ফল গ্রহণ করলে শক্তি বৃদ্ধি পায়।

১৬ শতকে স্প্যানিশরা যখন অ্যাভোকাডোকে বিশ্বজুড়ে পরিচিত করার প্রস্তুতি নেয়, সে সময় ফলটি আটলান্টিক পাড়ি দেয়। ১৫২১ সাল নাগাদ ফলটি মধ্য আমেরিকাজুড়ে এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু এলাকায় বেশ পরিচিত হয়ে ওঠে। স্প্যানিশরাই শুরুর দিকে ইউরোপজুড়ে ফলটির রপ্তানি শুরু হয়। ধীরে ধীরে অন্যান্য দেশও অ্যাভোকাডোতে আগ্রহ দেখায়।

১৯ শতকের শুরুর দিকে অ্যাভোকাডোর বাণিজ্যিক লাভ ও প্রচুর উৎপাদনের কারণে বিশেষজ্ঞ ও গবেষকরা ফলটির বিভিন্ন ধরন নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। ১৯৫০ সাল থেকে ক্যালিফোর্নিয়া থেকেই কেবল ২৫ জাতের অ্যাভোকাডো বাণিজ্যের জন্য বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হতো। বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়ায় দেশীয়ভাবে প্রচুর পরিমাণে অ্যাভোকাডো চাষ করা হয়। দেশজুড়ে যত ফসল উৎপাদন করা হয় তার ৯০ শতাংশই এই ফল। সারা বছরই এখানে অ্যাভোকাডোর চাষ হয়। প্রতি বছর একটি অ্যাভোকাডো গাছ থেকে অন্তত ২০০ পাউন্ড সতেজ ফল পাওয়া যায়।

আঙুর

কাউকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় বিশ্বে কোন ফলটি সবচেয়ে বেশি সরবরাহ করা হয়, সেক্ষেত্রে অনেকেই হয়তো কলা, আপেল বা কমলার নাম বলবেন। এসব ফলের সরবরাহ যে কম হয়, তা নয়। তবে এদের সংখ্যাকে ছাপিয়ে আঙুরের সরবরাহের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। ধরনের ওপর ভিত্তি করে বছরজুড়ে প্রায় ৭২ মিলিয়ন আঙুর চাষ করা হয়। মিসৌরির বিভিন্ন এলাকায় আগস্টের শেষ সময় থেকে আঙুর চাষ শুরু হয়।

আঙুর চাষের এই সভ্যতা অনেক পুরনো। নৃতত্ত্ববিদদের মতে, ৬৫০০ খ্রিস্টাব্দে নিওলিথিক যুগ থেকে মানুষ আঙুরের চাষ শুরু করেছিল। ৪০০০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ ট্রান্সককেশিয়া (পূর্ব ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়ার বর্ডার) থেকে এশিয়া এবং মিসরের নীল নদ পর্যন্ত আঙুর চাষ ছড়িয়ে গিয়েছিল। ব্যাবিলনের হামুরাবি রাজা সম্ভবত বিশ্বে সর্বপ্রথম ওয়াইন আইন কার্যকর করেন, যার ফলস্বরূপ খ্রিস্টপূর্ব ১৭০০ সাল থেকে ওয়াইনের বাণিজ্য শুরু হয়। আঙুরের আরও অস্তিত্ব পাওয়া যায় ৬০০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে, বর্তমান জর্জিয়ায়। ইতিহাসবিদদের মতে, এই এলাকায় বিপুল পরিমাণে আঙুর চাষ হতো। পান করার জন্য তখন আঙুর দিয়ে তৈরি ওয়াইনের ব্যাপক প্রচলন ছিল। একই রকম প্রমাণ পাওয়া যায় ৪৪৫০-৪০০০ খ্রিস্টাব্দে দক্ষিণ-পূর্ব আর্মেনিয়া এবং উত্তর গ্রিসেও।

আঙুর নিয়ে যতটুকু ইতিহাস জানা যায় তার প্রায় সবখানেই ওয়াইন প্রস্তুতের কথা বলা আছে। খাদ্য ইতিহাসবিদ ও লেখক ফ্র্যান্সাইন সিগানের মতে, ‘প্রাচুর্যতার কারণে আঙুর দিয়ে বানানো পানীয়ের চাহিদা বেশি ছিল। কারণ, সে সময় বিশুদ্ধ পানি পাওয়া যেত না। এমন সময়ও ছিল যখন শিশু-কিশোররাও ওয়াইন পান করত। শরীরের সুস্থতা ও হজমের কারণে পূর্বপুরুষরাও এটি পান করার অনুমতি দিতেন। প্রাচীন মিথোলজিসহ বাইবেলেও আঙুরের কথা বলা আছে। গহনাতে প্রতীকী চিহ্ন হিসেবে আঙুর ব্যবহার করত খ্রিস্টানরা। এ ছাড়া জন্ম/পুনর্জন্ম এমনকি জয়ের চিহ্ন হিসেবেও এর ব্যবহার ছিল। আঙুর থেকে যে কিশমিশ তৈরি করা যায় এটি কেউ জানত না। বলা যায়, এটি একরকম দুর্ঘটনা থেকেই তৈরি করা হয়েছিল। প্রাচীন অনেক ওয়ালপেইন্ট থেকে জানা যায়, ২০০০ খ্রিস্টাব্দের শুরুর দিকে ইউরোপের মেডিটেরানিয়ান অনেক রাজ্যে আঙুর শুকিয়ে সংগ্রহ করা হতো।

আঙুরের যত নতুন স্বাদের উদ্ভাবন হয়, তত যেন এই ফলের বাজার উন্মুক্ত হতে থাকে। ফ্রেঞ্চ রাজা ফ্রাংকয়িজ আঙুর খেতে ভীষণ ভালোবাসতেন। ১৫০০ শতকে তিনি তার রাজ্যে আঙুর চাষের জন্য একটি মরুভূমিই তৈরি করেছিলেন। আমেরিকার বিশেষজ্ঞ ও মিশনারি দলের মতে, আদিবাসীদের আবাস তৈরি হওয়ার অনেক আগে থেকেই আঙুর দিয়ে ওয়াইন তৈরির প্রচলন ছিল। উত্তর আমেরিকার নর্থ ক্যারোলিনার মান্তেওতে ৪০০ বছর আগের ‘মাদারভাইন’ নামে আঙুরলতার সন্ধান পাওয়া গেছে।

আপেল

মানব সংস্কৃতি ও ইতিহাসের সঙ্গে আপেলের নাম যতটা জড়িয়ে আছে অন্য কোনো ফলের নাম সম্ভবত সেভাবে নেই। স্বাদে বৈচিত্র্য, স্বাস্থ্য উপকারিতা, মিষ্টি স্বাদ সবকিছু মিলিয়ে সভ্যতাকে বদলে দেওয়ার ক্ষেত্রে আপেলের ভূমিকার জুড়ি নেই। সময়ে সময়ে আপেলের স্বাদে বহু পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি আপেল চাষ করা হয় এবং ৩২টি দেশে সরবরাহ করা হয়।

বিশ্বব্যাপী কমবেশি প্রায় সব জায়গাতেই আপেলের চাষ হয়। আপেলের সবচেয়ে বেশি চাষ করা প্রজাতি হচ্ছে জেনাস ম্যলুস (genus Malus)। আপেলের উৎপত্তিস্থল বলা হয় মধ্য এশিয়াকে। এখনো এখানে সবচেয়ে পুরনো বুনো প্রজাতি ম্যলুস সিভেরসি (Malus sieversii) প্রজাতির আপেল পাওয়া যায়। এশিয়া ও ইউরোপজুড়ে আপেলের চাষ হয়ে আসছে হাজার হাজার বছর ধরে। ইউরোপীয় বসতি স্থাপনকারীদের মাধ্যমে লাতিন আমেরিকায় এর পদার্পণ হয়। অনেক সংস্কৃতিতে আপেলের ধর্মীয় ও পৌরাণিক তাৎপর্য আছে যার মধ্যে জার্মানি, গ্রিক ও ইউরোপিয়ান খ্রিস্টীয় ঐতিহ্য অন্যতম।

জর্ডান নদীর তীরে অবস্থিত জেরিকো শহরকে সবচেয়ে প্রাচীন শহর হিসেবে মানা হয়। এ শহরেই মানবসভ্যতা ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। ৮৫০০ বছর আগে এই এলাকায় আপেল চাষ হতো। তবে এখানে নির্দিষ্ট কোনো আপেল বাগানের সন্ধান পাওয়া যায়নি। আপেল খেয়ে ভেতরের বীজ ছুড়ে দেওয়ার কারণে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে গাছের জন্ম হতো বলে ধারণা করা হয়। ৩২৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সর্বপ্রথম আলেকজান্ডার দি গ্রেট কাজাখস্তানে খাটো প্রজাতির আপেল খুঁজে পান যেগুলো তিনি মেসিডোনিয়াতে নিয়ে যান। শুরু থেকেই এশিয়া ও ইউরোপে গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান হিসেবে মানা হতো। ঔপনিবেশিকতার কারণে আপেলের নানা বৈচিত্র্যতা পাওয়া গিয়েছিল। সে সময় নিজ এলাকার পানি পান করা নিরাপদ ছিল না। যার কারণে নানা অসুস্থতা দেখা দিত। যেহেতু পানি বিশুদ্ধ করার উপায় সেভাবে কেউ জানত না, তাই সহজলভ্য হওয়ায় গাঁজন (জুসকে অ্যালকোহলে পরিণত করা) প্রক্রিয়ায় আপেল দিয়ে তৈরি করা পানীয় পান করা হতো। আপেল থেকে সহজেই বিয়ার আর অ্যাপেল সিডার তৈরির প্রচলন চালু হলে আপেল চাষের পরিমাণ বাড়তে থাকে। ১৭০০ সালের মধ্যদিকে পূর্ব উপকূলের প্রায় সব বাড়িতেই আপেলের বাগান ছিল। আপেলের এই উদ্ভাবনী গতিকে আরও বাড়িয়ে দেয় ভার্জিনিয়ার ব্লু রিজ পর্বতের আশপাশের এলাকা। উঁচু এলাকার এসব আপেল গাছে গ্রীষ্মের আর্দ্রতার সময়, এমনকি বর্ষা ঋতুতেও আপেলের খুব ভালো ফলন হতে থাকে। অন্যান্য ধরনের আপেলের ব্যবহার ছিল ফ্রাই, বেকিং, ভিনেগার বানাতে, ডিহাইড্রেশন রুখতে, এমনকি খাবার তালিকাতে অনেকের শুধু আপেলই থাকত। 

সূর্যমুখী

বাণিজ্যিকভাবে সূর্যমুখীর চাষ হয়ে আসছে কয়েক হাজার বছর ধরে। এই ফুলের আদি নিবাস উত্তর আমেরিকায়। ৪৫০০ বছর আগে আদিবাসী উপজাতিরা সর্বপ্রথম এই ফুলের চাষ শুরু করে। শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, এই ফুলের সবকিছুই ব্যবহার করা যেত বলে চাষ করা হতো বেশি। রুটি ও কেক বানাতে সূর্যমুখী দিয়ে ময়দা বানানো হতো। ফুলের বীজ পুড়িয়ে, ছিদ্র করে অথবা পুরোটা এমনিই খাওয়া হতো। আবার কোনো শস্য বা নাস্তায়, বাদাম বা ডাল হিসেবেও এর ব্যবহার ছিল। সূর্যমুখীর তেল যে রান্নায় খুবই উপকারি এটি সর্বপ্রথম আবিষ্কার করে আমেরিকানরা। শস্য হিসেবে এর গুরুত্ব তো ছিলই, বিশেষজ্ঞরা আবিষ্কার করেন সূর্যমুখী খাবার ছাড়াও নানাভাবে ব্যবহার করা যায়। সূর্যমুখীর তেল দিয়ে সানস্ক্রিন বানানো যায়, এ ছাড়া ফুলের রঙ ত্বক, চুল ও পোশাকে ব্যবহার করা যায়।

সূর্যমুখী নিয়ে নানা তথ্য সম্ভবত চার হাজার বছর আগেই আটকে থাকত যদি না ১৫১০ সালে ইউরোপিয়ান অভিযাত্রীরা এর সন্ধান পেতেন। স্প্যানিশ নাবিকরা বড় আকৃতির বেশ কয়েকটি সূর্যমুখীর সন্ধান পেয়ে সেগুলোর বীজ নিজ দেশে নিয়ে যান। পরের ২০০ বছর ইউরোপিয়ানরা শুধু এই ফুলের খাবার ও তেল নিয়ে গবেষণা করেছেন। দেখতে আকর্ষণীয় বলে এই ফুল সহজেই নজর কাড়ে। যার কারণে গহনা বানাতে এই ফুলের বেশ কদর ছিল ইউরোপে। পশ্চিম ইউরোপে ধীরে ধীরে প্রদাহবিরোধী ও ওষুধ হিসেবে এর ব্যবহার বাড়তে থাকে। ১৭০০ শতকে সূর্যমুখীর নানাবিধ ব্যবহারের কারণে এর চাষাবাদ বেড়ে যায়। ১৯ শতক নাগাদ ইউরোপ, রাশিয়া, ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক বিস্তৃত হয় সূর্যমুখী। ১৮ শতকে সূর্যমুখী তেলের ব্যাপক ব্যবহার ও চাহিদার কারণে রাশিয়া ও ইউক্রেনজুড়ে আট লাখেরও বেশি একরজুড়ে ফুলের চাষ শুরু হয়।

সূর্যমুখীর সবচেয়ে সফলতা ছিল প্রাণীদের খাবার হিসেবে প্রস্তুত করার পর। ১৯২০ সালের মাঝামাঝি সময়ে নতুনভাবে সূর্যমুখী তেলের বাজার চালু হয়। যত এই ফুলের চাহিদা বাড়তে থাকে তত বিশ্ববাসী এতে আগ্রহী হয়। ১৯৩০ সালে কানাডা সরকার সূর্যমুখী চাষের অনুমতি দেয়।

আনারস

আনারসের জন্মস্থান দক্ষিণ ব্রাজিল থেকে প্যারাগুয়ের মধ্যে কোনো একটি এলাকায়। নির্দিষ্টভাবে ঠিক কোন জায়গায় এর জন্ম তা বলা না গেলেও এসব এলাকার প্রায় সবখানেই আনারসের চাষ হতো। অ্যাজটেক ও মায়ান নৃগোষ্ঠী আনারসের চাষ করত। ইউরোপীয়দের হাতে আনারস আসে কলম্বাসের হাত ধরে। ১৪৯৩ সালে দ্বিতীয় সমুদ্রযাত্রার সময় কলম্বাস গুয়াদেলুপ দ্বীপে অদ্ভুত এক ধরনের উদ্ভিদ দেখতে পেয়েছিলেন। সে সময় এর নাম দেওয়া হয়েছিল ‘পাইনা ডি ইন্দেস’। সে সময় মিষ্টিজাতীয় দ্রব্য খুব একটা সহজপ্রাপ্য না হওয়ায় আনারসকে রাজকীয় খাবার হিসেবেই ব্যবহার করা হতো।

আমেরিকায় আনারস দিয়ে টেবিল সাজানোর ব্যাপার রীতিমতো সৌভাগ্যের বিষয় ছিল। এ ছাড়াও খাবার টেবিলে আনারস নারীদের কাছে অসম্ভব আরাধ্য একটি দ্রব্য ছিল। এত বেশি দু®প্রাপ্য ছিল ফলটি যে, একটা সময় আমেরিকায় ভাড়া দেওয়া হতো আনারস। সম্মানের বিষয় হওয়ায় নিজের অনুষ্ঠানে ভাড়া করে আনারস নিয়ে, সেটিকে দেখিয়ে, প্রশংসা কুড়িয়ে তারপর আবার ফিরিয়ে দেওয়ার রেওয়াজটা বেশ স্বাভাবিক হয়ে উঠেছিল সে সময়।

টমেটো

বলিভিয়ার পার্বত্য অঞ্চল পেরুকে বলা হয় টমেটোর আদি বাড়ি। ৫০০ বছর আগে আন্দিজ পর্বতমালার উত্তর অংশে মাঝামাঝি উচ্চতায় টমেটো গাছ জন্মাত। অতীতের টমেটো দেখতে বর্তমানের মতো ছিল না। কিছুটা ছোট আকৃতির ও লাল বা ঈষৎ হলদেটে রঙের হতো সে সব টমেটো। বুনো হওয়ার কারণে পেরুতে এই চেরি টমেটোগুলো কেউ খেত না। এর প্রায় দুই হাজার বছর পর টমেটোর জাত, আকার, স্বাদে বেশ কিছুটা পরিবর্তন আসে। পেরু থেকে যাত্রা শুরু করে উত্তর দিকে ইকুয়েডর, কলম্বিয়া, পানামা, মধ্য আমেরিকা হয়ে টমেটো পৌঁছায় মেক্সিকোতে। এখানে মায়া সভ্যতায় জনপ্রিয় হয়ে ওঠে টমেটো। এখানে অবশ্য যে ফলগুলো মিলত সেগুলোর আকার বড় ছিল, রঙ ছিল লাল ও হলুদ।

অ্যাজটেকরা সর্বপ্রথম টমেটোকে খাদ্য তালিকায় নিয়ে আসে। তাদের ব্যবহার করা এই টমেটোগুলোই মধ্য আমেরিকা হয়ে পেরুতে পৌঁছায়। এখানে এসে ইনকাদের কাছে নতুনত্বের জায়গা করে নেয় টমেটো।

আনারসের মতো ইউরোপে টমেটোও পরিচিত হয়েছিল কলম্বাসের হাত ধরে। তবে শুরুর দিকে প্রায় দুই শতক ইউরোপিয়ানরা একে বিষাক্ত বলে জানত। টমেটো খেয়ে ইতালিতে কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনায় টমেটো খাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। তবে এই ইতালিবাসীই আবার খেয়াল করে, এই টমেটো খেয়েও গরিব মানুষ দিব্যি বেঁচে আছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে লক্ষণীয় ছিল, তারা টমেটো খেত কাঠের পাত্রে। যেখানে অভিজাতরা তামা, অ্যান্টিমনি, সিসা ও টিনের মিশ্রণে তৈরি ধাতব পাত্রে টমেটো খেত। টমেটোতে উপস্থিত ভিটামিন সি এসব ধাতব পাত্রের সংমিশ্রণে এসে বিষক্রিয়া তৈরি করে। যার কারণেই তাদের মৃত্যু হতো। ইউরোপিয়ানদের ভুল ভাঙতে খুব বেশি সময় লাগেনি। এরপর থেকেই টমেটোর প্রচলন বাড়তে থাকে লক্ষণীয় হারে।

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ...
© বাংলা বাহন সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০১৯-২০২১।
ডিজাইন ও আইটি সাপোর্ট: বাংলা বাহন