1. admin@banglabahon.com : Md Sohel Reza :
মানিকগঞ্জে কান্তাবতী নদীর সেতু নির্মাণের নির্ধারিত স্থানে জটিলতা, বাড়বে ব্যয়
সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন

মানিকগঞ্জে কান্তাবতী নদীর সেতু নির্মাণের নির্ধারিত স্থানে জটিলতা, বাড়বে ব্যয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশ: রবিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৩
ছবি: নতুন সড়কে কান্তাবতী নদীর সেতু নির্মাণের নির্ধারিত স্থান। -বাংলা বাহন

মানিকগঞ্জে শিবালয় উপজেলার বাড়াদিয়া বাজারের উত্তরে কান্তাবতী নদীর ওপর ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নিমার্ণের স্থান নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নানা জটিলতা। জনসাধারণ চলাচলের শত বছরের উচু ও প্রশস্ত রাস্তায় এই সেতু নির্মাণ না করে প্রায় একশ’ মিটার পূর্ব দিকে স্থান নির্ধারণ করেছে এলজিইডি। সেতুটির দক্ষিণে সড়ক নির্মাণে জমি, দোকানপাট ও পাকা মার্কেট মালিকদের আপত্তি থাকায় করতে হবে জমি অধিগ্রহণ। এতে বাড়বে নির্মাণ ব্যয়। তাছাড়া নতুন এই সড়ক সংলগ্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের চলাফেরা ঝুকিঁপূর্ণের আশঙ্কায় কৃর্তপক্ষেরও রয়েছে আপত্তি।

অথচ শত বছরের পুরনো রাস্তায় সেতু ও সড়কে নির্মাণ করতে এলাকাবাসী ও জমি মালিকদের সম্মতি থাকায় প্রয়োজন নেই জমি অধিগ্রহণের। সেতু নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু থেকে কৃর্তপক্ষের অদূরদর্শিতা, উন্নয়ন কাজে এলাকাবাসীর মতামত না নিয়ে একতরফা সিদ্ধান্তের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন তারা। এনিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

মানিকগঞ্জে কান্তাবতী সেতু নির্মাণের নির্ধারিত স্থানে জটিলতা, বাড়বে ব্যয়
ছবি: শত বছরের পুরনো রাস্তায় কান্তাবতী নদীর ওপর বাঁশের সাঁকো। -বাংলা বাহন

এলজিইডি’র সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও সরেজমিনে গেলে এলাকাবাসী জানান, উথলি-জাফরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক থেকে বাড়াদিয়া বাজারের উত্তরে আসলাম উদ্দিনের মার্কেটের পাশের রাস্তায় এই নদী পার হতে হয়। ওপারের উঁচু ও প্রশস্ত রাস্তায় আগুনপুর, বহলাকোল, নেকীকান্দি, হিজুলিয়াসহ অন্তত ১০/১২টি গ্রামের মানুষ চলাফেরা করেন। বর্ষা মৌসুমে নৌকায় নদী পারাপার ও শুষ্ক মৌসুমে শুকিয়ে যায় এই নদী। বর্ষার পর সেখানে বাঁশের সাঁকোতে চলাফেরা করে থাকেন এখানকার লোকজন। শত বছরের পুরনো ওপারের রাস্তাটিও বিভিন্ন সময় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বড়টিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ও বেসরকারি সংস্থা সিসিডিবি মাটি ফেলে নির্মাণ করে দিয়েছে। এই রাস্তা সংলগ্ন রয়েছে কবরস্থান ও শ্মশানঘাট। দীর্ঘ দিন ধরে এই স্থানটিতে নদীর ওপর সেতুর দাবি করে আসছিলেন এলাকাবাসী।

মানিকগঞ্জে কান্তাবতী সেতু নির্মাণের নির্ধারিত স্থানে জটিলতা, বাড়বে ব্যয়
ছবি: শত বছরের জনসাধারণের চলাচলের উঁচু ও প্রশস্ত রাস্তা। -বাংলা বাহন

৩/৪ বছর আগে এই নদীর ওপর সেতু নির্মাণের খবর শুনে এলাকার নসের উদ্দিনসহ কয়েকজন জমির মালিক নিজস্ব উদ্যোগে পুরনো রাস্তা থেকে একশ’ মিটার পর্ব দিকে মাটি ফেলে আরেকটি সরু রাস্তা তৈরি করেন। এই নতুন রাস্তায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মানিকগঞ্জ নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সেতু নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু করে। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ৫ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে ৬৬ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৯.৮ মিটার প্রস্থ সেতু (আইডি নম্বর: ১০-৩৫৬২২৫০২৯) এবং সেতুর দক্ষিণে ১৫০ মিটার সড়ক ও উত্তরে ৬০ মিটার সড়ক নির্মাণের জন্য টেণ্ডার আহ্বানও করা হয়েছে। নতুন এই রাস্তায় সেতু ও সড়ক নির্মাণে আপত্তি তুলেছেন এলাকাবাসী। সেতুর দক্ষিণে সড়ক নির্মাণে ভাঙতে হবে দোকানপাট ও পাকা মার্কেট। তা করতে রাজি নন মালিকরা। তাছাড়া, কয়েকজনের জমির মালিকানা নিয়েও আদালতে চলছে মোকদ্দমা। মোকদ্দমা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জমির ওপর সড়ক নির্মাণে আইনগত বাধা রয়েছে। অপরদিকে, জমি, দোকানপাট ও মার্কেট ভেঙে সড়ক নির্মাণ করতে গেলেও জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণে ব্যয় বেড়ে যাবে।

মানিকগঞ্জে কান্তাবতী সেতু নির্মাণের নির্ধারিত স্থানে জটিলতা, বাড়বে ব্যয়
ছবি: সেতু নির্মাণের কথা শুনে ৩/৪ বছর আগে ব্যক্তি উদ্যোগে মাটি ফেলে রাস্তা তৈরি করে জমির মালিকরা। -বাংলা বাহন

এছাড়া, বাড়াদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাড়াদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের গেটের সামনে দিয়ে নতুন এই সড়ক নির্মাণ করা হবে। এই স্কুলসহ পাশের আবরার মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা চলাচলে মারাত্নক ঝুকির মধ্যে পড়বে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিরা সড়ক নির্মাণে আপত্তি জানিয়েছেন। অথচ শত বছরের পুরনো রাস্তায় সেতু ও সড়ক নির্মাণে আপত্তি নেই এলাকাবাসীর। সেখানে সেতু ও সড়ক নির্মাণে যথেষ্ট জমি ফাঁকা রয়েছে। তারপরও কোন স্থাপনা সড়িয়ে নিতে কাউকে দিতে হবে না ক্ষতিপূরণ। এ নিয়ে এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলী, মানিকগঞ্জ নির্বাহী প্রকৌশলী, জেলা প্রশাসক, শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় আসলাম উদ্দিন জানান, পূর্ব পূরুষ থেকে তাদের জমির ওপর দিয়ে নদী পারাপার হয়ে উত্তরাঞ্চলের অন্তত ১০/১২টি গ্রামের মানুষ সারা বছর চলাফেরা করছেন। এলাকাবাসীর দাবি এই পুরনো রাস্তায় সেতু নির্মাণের। এখানে সেতু ও সড়ক নির্মাণ করা হলে তার কোন আপত্তি নেই। এলাকার স্বার্থে ও উন্নয়নের প্রয়োজনে স্থাপনাও সড়িয়ে নেবেন। এজন্য কোন ক্ষতিপূরণ কিংবা জমি অধিগ্রহণ করাও লাগবে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় আব্দুল মুন্নাফ জানান, তার বয়স প্রায় ৭৫ বছর। ছোট বেলা থেকেই বাড়াদিয়া বাজার থেকে উত্তরে নদী পার হয়ে ওই পুরনো রাস্তায় তারা চলাফেরা করছেন। বিভিন্ন সময় ওই রাস্তায় মাটি ফেলে উঁচু ও প্রশস্ত করা হয়েছে।

আফাজ উদ্দিন জানান, দীর্ঘ দিন ধরে এই পুরনো রাস্তায় নদীর ওপর সেতু নির্মাণের দাবি করে আসছিলেন এলাকাবাসী। এখন শুনছি সেতু নির্মাণ করা হবে জমির মালিকদের মাটি ফেলে করা নতুন রাস্তায়। বিষয়টি দুঃখজনক।

মানিকগঞ্জে কান্তাবতী সেতু নির্মাণের নির্ধারিত স্থানে জটিলতা, বাড়বে ব্যয়
ছবি: সেতুর দক্ষিণের সড়ক নির্মাণে ভাঙা পড়বে, দোকানপাট ও পাকা মার্কেট। -বাংলা বাহন

আরিফ হোসন জানান, পুরনো রাস্তার পাশে তাদের জমি। ৭/৮ বছর আগেও ওই জমি থেকে মাটি কেটে রাস্তায় ফেলে উঁচু ও প্রশস্ত করা হয়েছে। এখন এই রাস্তা বাদ দিয়ে নতুন সরু রাস্তায় সেতু নির্মাণ কিভাবে করে। এটাই ভাবনার বিষয়।

স্থানীয় অ্যাডভোকেট ইউনুস আলী জানান, তিনি মাদ্রাসার সভাপতি ও প্রস্তাবিত সেতুর দক্ষিণের মার্কেট মালিক। সড়কের জন্য মার্কেট ভেঙে সড়িয়ে নিতে আপত্তি রয়েছে। তাছাড়া, এখানে সড়ক নির্মাণ করা হলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের চলাফেরায় ঝুঁকি বাড়বে। এজন্যও তার আপত্তি রয়েছে। পুরনো রাস্তায় সেতু ও সড়ক নির্মাণের দাবি করেন তিনি।

বাড়াদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রতন কুমার হালদার জানান, নতুন সড়কটি বিদ্যালয়ের গেটের সামনে দিয়ে নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীদের চলাচলে ঝুঁকি বাড়বে। কোন শিক্ষার্থীর দুর্ঘ টনার শিকার হলে অভিভাবকদের কাছে কি জবাব দেব? সারা জীবন এই দায় বয়ে বেড়াতে হবে। এজন্য সেতু ও সড়ক নির্মাণকারী কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি বিবেচনার দাবি জানান তিনি।

মানিকগঞ্জে কান্তাবতী সেতু নির্মাণের নির্ধারিত স্থানে জটিলতা, বাড়বে ব্যয়
ছবি: বাড়াদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গেটের সামনে দিয়ে নতুন সড়ক নির্মাণ করা হবে। -বাংলা বাহন

নতুন রাস্তার জমির মালিক চাঁন মিয়া জানান, সেতুর কথা শুনে ৩/৪ বছর আগে জমির মালিকরা যার যার জমি থেকে মাটি কেটে নতুন রাস্তা করেছে। যাতে জমির দাম বাড়ে।

নসের উদ্দিন জানান, সেতু সেখানে নির্মাণ করা হবে। এই সেতুর দক্ষিণে তার জমি রয়েছে। সেখানে মার্কেট করেছেন। আর নতুন রাস্তায় এপাড় সরকারি জমি আছে। তাই এখান দিয়ে সেতু নির্মাণ করছে এলজিইডি। আগে এই রাস্তা এখানে ছিল না। নকশায় রাস্তা আছে দেখে বের করা হয়েছে।

স্থানীয় উথলি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আব্বাস আলী বলেন, ‘নদীর ওপর সেতু হওয়া খুবই দরকার। সেটি এলাকাবাসীর সুবিধা-অসুবিধা অবশ্যই বিবেচনায় রেখে করতে হবে। কারো একতরফা সিদ্ধান্তে এলাকায় বিভক্তির সৃষ্টি হউক তা কাম্য নয়। এলাকাবাসী পুরনো রাস্তায় সেতু ও সড়ক নির্মাণের দাবি করেছে। সেখান তা করা হলে কোন জটিলতা থাকতো না। জমি অধিগ্রহণ ও কাউকে ক্ষতিপূরণও দিতে হতো না।’

এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়জুল হক বলেন, ‘এলজিইডি’ প্রত্যেক সড়কে ডিজিটাল আইডি নম্বর রয়েছে। সেই আইডি নম্বর রয়েছে সেখানকার নতুন রাস্তায়। সেই আইডি নম্বর অনুযায়ী সেতু ও সড়কের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছিল। সেটি অ্যাপ্রুভাল হয়েছে। সড়ক নির্মাণে মালিকদের আপত্তি থাকলে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় যেতে হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীদের নিয়ে বসে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হবে। এতেও সমাধান না হলে সেতু নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়া হবে।‘

শেয়ার করতে চাইলে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ...
© বাংলা বাহন সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০১৯-২০২৪।
ডিজাইন ও আইটি সাপোর্ট: বাংলা বাহন
error: Content is protected !!