1. admin@banglabahon.com : Md Sohel Reza :
করোনা পরিত্রাণে প্রার্থনায় শুভ বড়দিন উদযাপিত
সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:৩৫ অপরাহ্ন

করোনা পরিত্রাণে প্রার্থনায় শুভ বড়দিন উদযাপিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২০
ফাইল ফটো

কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে শুক্রবার খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন (ক্রিসমাস) উদযাপিত হয়েছে। শুধুই ধর্মীয় আচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল এবারের বড়দিন। করোনাভাইরাস থেকে পরিত্রাণ ও বিশ্ব শান্তি কামনায় সারাদেশের চার্চগুলোতে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

২ হাজার বছর পূর্বে বেথেলেহেম শহরের কোনো এক গোশালায় কুমারী মাতা মেরির কোলে জন্মগ্রহণ করেন খ্রিস্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিস্ট। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, সৃষ্টিকর্তার মহিমা প্রচার, মানবজাতিকে পাপ থেকে মুক্তি দিয়ে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করতে পৃথিবীতে আগমন ঘটে মহামতি যিশুর।

খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের নেতৃবৃন্দের দেওয়া তথ্য মতে, সারাদেশে ছোট বড় প্রায় সাড়ে তিন হাজারের মতো চার্চ রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় রয়েছে ৭৪টি। করোনাভাইরাসজনিত মহামারীতে এবার সীমিত পরিসরে ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে বড়দিন পালন করা হবে বলে চার্চগুলোকে আগেই নির্দেশনা দেওয়া ছিল।

প্রথা অনুযায়ী বড়দিনের আগের রাতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন গির্জা ও উপাসনালয়ে প্রার্থনার মধ্য দিয়ে বড়দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। কাকরাইল সেন্ট মেরিস ক্যাথেড্রালে বরাবরের মতই যিশুর জন্মমুহূর্তের স্মরণে বানানো হয় প্রতীকী গোশালা। গির্জার ঘন্টাধ্বনি সকাল ৮টায় বেজে উঠলে শুরু হয় সাম সঙ্গীত। এরপর সার্বজনীন প্রার্থনা ও অর্ঘ্য বিরণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

রাজধানীর তেজগাঁও ফার্মগেট ক্যাথলিক গির্জায় (পবিত্র জপমালার গির্জা) সকাল সাতটা ও ৯টায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

এছাড়া মহাখালীর লুর্দের রানীর গির্জা, লক্ষ্মীবাজারের ক্রুশ ধর্মপল্লী, মোহাম্মদপুরের সেন্ট ক্রিস্টিনা গির্জা, মিরপুর-২ এর মিরপুর ক্যাথলিক গির্জা, কাফরুলের সেন্ট লরেন্স চার্চেও আচার ও বিশেষ প্রার্থনা হয়। সকল অনুষ্ঠান হয় স্বাস্থ্য বিধি মেনে।

বড়দিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে ফার্মগেট ক্যাথলিক চার্চের আর্চবিশপ বিজয় এন ডি ক্রুজ বলেন, যিশু খ্রিস্টের আগমন বয়ে আনুক অনেক আশা, সুস্থতা, নতুন জীবন ও আনন্দ। এই নিষ্ঠুর করোনাভাইরাসের হাত থেকে বিশ্ব মুক্ত হোক। সকল অসত্য, অন্ধকার, ভয়, মিথ্যা, অত্যাচার দূরিভূত হোক। মানুষ লাভ করুক প্রকুত সুখ ও শান্তি। সকালে কাকরাইলের সেন্ট ম্যারিস ক্যাথেড্রাল চার্চের ফাদার বিমল ফ্রান্সিস গোমেজ বলেন, যিশুখ্রিস্ট শান্তির বার্তা নিয়ে এ পৃথিবীতে এসেছিলেন। আমাদের প্রার্থনা সারা বিশ্বের মানুষের মঙ্গল এবং দেশ ও জাতির শান্তিকামনা। একই সঙ্গে সমগ্র বিশ্ব যেন করোনামুক্ত হয় সেটিও আমাদের প্রার্থনা।

খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বড়দিন উপলক্ষে সংহতি ও শুভেচ্ছা সমাবেশ করেছে মুসলিম-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সম্প্রীতি পরিষদ। শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এম এ ভাসানীর নেতৃত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সংহতি সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে এম এ ভাসানী বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির দেশ। হাজার বছর ধরে এখানে ভিন্ন জাতিসত্তা ও ভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সকল ধর্ম-বর্ণ, জাতি-গোষ্ঠী ঐক্যবদ্ধ হয়ে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে দেশমাত্রিকাকে শত্রু মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। সে দিন কে হিন্দু কে বৌদ্ধ কে খ্রিস্ট্রান কে মুসলমান কোনও ভেদাভেদ ছিল না। সবাই একযোগে একসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।

তিনি বলেন, সকল ধর্মই সত্য ও শান্তির জয় গান গেয়ে গেছে। আমরা রামুর বৌদ্ধ মন্দিরে আক্রমণের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছি। হিন্দুদের মূর্তি ভাঙার বিরুদ্ধে অনুরূপ পতিবাদ করেছি। খ্রিস্টানদের গির্জায় যখন বোমাহামলা হয়, তারও প্রতিবাদ জানিয়ে সমাবেশ করেছি। কাজেই আমরা এসব বাস্তবতার আলোকে ধর্মীয় সম্প্রীতি আরও জোরদার করার লক্ষ্যে মুসলিম-হিন্দু-বৌদ্ধ খ্রিস্টান সম্প্রীতি পরিষদ নামে সংগঠনটি তৈরি করেছি। বিশ্ব শান্তি, বিশ্ব সম্প্রীতির লক্ষ্যে এই সংগঠনটি কাজ করে যাচ্ছে। সবাইকে এর পতাকা তলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

সংহতি ও শুভেচ্ছা সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রদূত অধ্যাপক ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক, এ জলিল, মো. আনিসুর রহমান, মো. রোকন উদ্দিন পাঠান, এ্যাড. আবুল কালাম আজাদ, মাওলানা কারী আসাদুজ্জামান প্রমুখ।

এদিকে বড়দিন উপলক্ষে দেশের সব চার্চ ও তারকা হোটেলগুলোকে ক্রিসমাস ট্রি, রঙিন বাতি, বেলুন ও ফুল দিয়ে সাজানো হলেও এবার এসব করা হয়েছে সীমিত আকারে। এ উপলক্ষে হোটেল ও খ্রিষ্টান পরিবারগুলোতে নানা ধরনের কেক, পিঠাসহ বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়।

২ হাজার বছর পূর্বে বেথেলেহেম শহরের কোনো এক গোশালায় কুমারী মাতা মেরির কোলে জন্মগ্রহণ করেন খ্রিস্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিস্ট। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, সৃষ্টিকর্তার মহিমা প্রচার, মানবজাতিকে পাপ থেকে মুক্তি দিয়ে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করতে পৃথিবীতে আগমন ঘটে মহামতি যিশুর।

শেয়ার করতে চাইলে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ...
© বাংলা বাহন সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০১৯-২০২৪।
ডিজাইন ও আইটি সাপোর্ট: বাংলা বাহন
error: Content is protected !!