1. admin@banglabahon.com : Md. Sohel Reza :
করোনা চিকিৎসায় নতুন ওষুধের সন্ধান : বাংলা বাহন
শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:০১ পূর্বাহ্ন
আপনিও লিখুন:
‘বাংলা বাহন’ নিউজপোর্টালে আপনাদের মতামত, পরামর্শ, সমসাময়িক কোন বিষয়ে লেখা, বিশ্লেষণ, তথ্য, ছবি ও ভিডিও পাঠাতে পারেন info@banglabahon.com ঠিকানায়।

করোনা চিকিৎসায় নতুন ওষুধের সন্ধান

বিদেশ ডেস্ক:
  • প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২০

করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে পৃথিবীর বহু দেশেই গবেষণা চলছে। তবে এ বছরের শেষের আগে তা বাজারে আসার সম্ভাবনা কম। তার আগে কিছুটা আশার কথা শোনালো আমেরিকা। তাদের দাবি, একটি নতুন ওষুধের সন্ধান মিলেছে। যার সাহায্যে করোনা রোগীদের দ্রুত সুস্থ করে তোলা সম্ভব হচ্ছে। ওষুধটি নিয়ে চিকিৎসক এবং গবেষকরা এখনও পরীক্ষা চালাচ্ছেন। তাঁদের দাবি, সরাসরি করোনার ওষুধ না হলেও কোভিড-১৯ এর চিকিৎসায় এই ওষুধের ব্যবহারে সাড়া মিলছে।

নতুন এই ওষুধের নাম ‘রেমডেসিভিয়ার’। এর আগে সার্স এবং মিডিল ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রমের চিকিৎসায় ব্যবহার হয়েছে এই ওষুধ। মার্কিন চিকিৎসক এবং গবেষকদের বক্তব্য, করোনা রোগীদের শরীরে এই ওষুধ ব্যবহার করে দেখা গিয়েছে গড়ে চার দিন আগে সুস্থ হয়ে উঠছেন তাঁরা। আমেরিকার দাবি, বেশ কিছু হাসপাতালে এক হাজার ৬৩ জনের শরীরে ওই ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছিল।

দেখা গিয়েছে, সাধারণ করোনা রোগীদের চেয়ে ৩১ শতাংশ দ্রুত হারে ওই রোগীরা সুস্থ হয়েছেন। পরিসংখ্যান দিয়ে বলা হয়েছে, একজন সাধারণ করোনা রোগী সাধারণ চিকিৎসা পেলে এবং তাঁর শরীরে অন্য সমস্যা দেখা না দিলে ১৫ দিনে সুস্থ হয়ে ওঠেন। সেখানে রেমডেসিভিয়ারের ব্যবহারে তিনি ১১ দিনে সুস্থ হয়ে উঠছেন। শুধু তাই নয়, দ্রুত এই ওষুধ ব্যবহার করলে রোগীর শরীরে অন্য রোগের সংক্রমণও কম ঘটছে।

বুধবার হোয়াইট হাউসে দাঁড়িয়ে নতুন এই ওষুধের কথা ঘোষণা করেছেন অ্যান্টনি ফওসি। আমেরিকা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজের ডিরেক্টর তিনি। তাঁর আরও দাবি, এই ওষুধ ব্যবহার করলে করোনা সংক্রমণে মৃত্যুর আশঙ্কাও অনেকটা রোধ করা সম্ভব। মেডিকেল জার্নালে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত ভাবে জানানো হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আমেরিকায় এই ওষুধ তৈরি করা হচ্ছে। দ্রুত যাতে বিভিন্ন হাসপাতালে এই ওষুধ পৌঁছে দেওয়া যায়, তার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, এখনও ওষুধটি নিয়ে পরীক্ষা চলছে। করোনা প্রতিরোধে এই ওষুধ সর্বত্র একই রকম ভাবে কাজ করবে কি না, তা নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। কোনও কোনও বিশেষজ্ঞ মনে করিয়ে দিচ্ছেন হাইড্রোক্লোরোকুইনের কথা।

প্রাথমিক ভাবে মনে করা হয়েছিল, এই ওষুধটিও করোনার চিকিৎসায় কাজে লাগছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা এর সত্যতা সে ভাবে খুঁজে পাননি। বরং তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই ওষুধে সাইড এফেক্ট বা অন্য সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ দিকে করোনা-লকডাউনের ফলে মার্কিন অর্থনীতি কার্যত ধসে পড়তে শুরু করেছে। ১৯৩০ এর দশকে গ্রেট ডিপ্রেশন বা মহামন্দার পরে অর্থনীতির এমন বেহাল দশা আর কখনও হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২০ সালের প্রথম তিন মাসে মার্কিন অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। পরিস্থিতি এমনই চলতে থাকলে আগামী কয়েক মাসে তা আরও কমবে বলেই আশঙ্কা। কোনও কোনও অর্থনীতিবিদের ধারণা, এ বার মহামন্দার থেকেও খারাপ অবস্থা হতে পারে মার্কিন অর্থনীতির।

শুধু আমেরিকা নয়, গোটা বিশ্বেই অর্থনীতির অবস্থা শোচনীয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গোটা পৃথিবীতে নতুন করে কয়েক কোটি মানুষ গরিব হবেন। অর্থনৈতিক ভাবে এখন যাঁরা নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, কাজ হারানোর জন্যই নতুন করে গরিব হবেন তাঁরা। পৃথিবীর সমস্ত বড় শহরে এই নতুন গরিবদের দেখতে পাওয়া যাবে বলে তাঁরা জানাচ্ছেন। তবে এই নতুন গরিবদের খানিকটা সাহায্য করতে পারে সরকার। তাঁদের যদি কিছু দিনের জন্য বেঁচে থাকার ন্যূনতম প্যাকেজ দেওয়া যায়, তা হলে ভবিষ্যতে ফের তাঁরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন বলেও আশা প্রকাশ করেছেন গবেষকরা। জার্মানি এর মধ্যেই সেই ব্যবস্থার ইঙ্গিত দিয়েছে।

এ দিকে ইউরোপের পরিবেশবিদরা জানিয়েছেন, লকডাউনের ফলে দূষণের মাত্রা চোখে পড়ার মতো কমেছে। দূষণ কম হওয়ায় বেঁচে গিয়েছেন প্রায় ১১ হাজার মানুষ। তাঁদের বক্তব্য, করোনায় হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হলেও দূষণের কারণে প্রতি বছর যে মৃত্যু হয়, এ বছর সেই হার অনেকটাই কমেছে।

বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গোটা বিশ্বে করোনায় মৃত্যু হয়েছে দুই লাখ ২৮ হাজার জনের। আক্রান্ত ৩২ লাখ ২০ হাজার। সুস্থ হয়েছেন ১৪ লাখ সাত হাজার জন। শুধু আমেরিকাতেই এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৬১ হাজার জনের। আক্রান্ত ১০ লাখ ৬৪ হাজার। বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান জানিয়েছেন, কোনও কোনও মহল থেকে বলা হচ্ছে, সংস্থাটি করোনা পরিস্থিতি নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়নি। কিন্তু বাস্তব হলো, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অত্যন্ত দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

সূত্র: রয়টার্স, এপি

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ...
© বাংলা বাহন সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০১৯-২০২১।
ডিজাইন ও আইটি সাপোর্ট: বাংলা বাহন