1. admin@banglabahon.com : Md Sohel Reza :
করোনাকালে ধর্ষণের শিকার ৬২৬ শিশু: এমজেএফ
সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন

করোনাকালে ধর্ষণের শিকার ৬২৬ শিশু: এমজেএফ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশ: শনিবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২১

মহামারীর দিনগুলোতে এই ঘরবন্দি সময়েও শিশু ধর্ষণ ও বাল্যবিবাহের ঘটনা ‘আশংকাজনকভাবে’ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন-এমজেএফ। সংস্থাটি শনিবার জানিয়েছে ২০২০ সালের জানুয়ারী থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ৬২৬ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

এদিন সকালে অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে ‘বাংলাদেশ শিশু পরিস্থিতি ২০২০’ শিরোনামে শিশু অধিকার-বিষয়ক সংবাদের আধেয়-বিশ্লেষণ থেকে প্রাপ্ত তথ্য উপস্থাপন করে এমজেএফ জানিয়েছে, এই সময়ে বাল্যবিবাহ ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে!

বাংলাদেশের শিশুদের সার্বিক নিরাপত্তা দিতে ‘আরো কার্যকর ব্যবস্থা’ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

এমজেএফ ২০১১ সাল থেকে সংবাদপত্রকে উৎস হিসেবে ধরে শিশু সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরণের সংবাদ নিয়মিত সংরক্ষণ করে। সংস্থাটি ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করলেও শিশু নির্যাতন, শিশুর সাফল্য, হত্যা, আত্মহত্যা, যৌন নিপীড়নসহ শিশুর অধিকার বিষয়ক বিভিন্ন ক্ষেত্রে নজর দিয়ে থাকে।

এমজেএফের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনামের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের শিশু-অধিকার বিষয়ক ককাসের সদস্য অ্যারোমা দত্ত এম.পি। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মুহিবুজ্জামান। এমজেএফের পরিচালনা বোর্ডের সদস্য ফাতেমা ইউসুফসহ এমজেএফের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন আলোচলায় অংশ নেন।

এসময় ‘বাংলাদেশ শিশু পরিস্থিতি ২০২০’-এর সার্বিক পরিস্থিতি উপস্থাপন করেন এমজেএফের শিশু সুরক্ষা বিভাগের সমন্বয়ক রাফেজা শাহীন।

৮টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত শিশু অধিকার বিষয়ক সংবাদ পর্যালোচনা করে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, এই সময়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ৩৭ জন শিশুকে। অন্যদিকে বাল্য বিয়ের শিকার হয়েছে ১০১ জন।

এমজেএফের পর্যালোচনা অনুযায়ী, ‘অবনতিশীল শিশু অধিকার পরিস্থিতি থেকে এটি সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে বাংলাদেশের শিশুরা তাদের ঘরেই নিরাপদ নয়, কারণ অধিকাংশ শিশু-ধর্ষণ পারিবারিক পরিমণ্ডলে পরিচিতদের দ্বারাই সংঘটিত হয়েছে। একইভাবে পারিবারিক প্রভাবের কারণে করোনাকালে বাল্যবিবাহ আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।’

এই সময়ে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ১৯২ জন শিশু নিহত হয়েছে, যার মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশুর সংখ্যা ১৫৮ জন। পাশাপাশি পানিতে ডুবে মারা গেছে ১৬৫ জন।

এছাড়া ধর্ষণ, ধর্ষণচেষ্টা, হত্যা, অপহরণ, নিখোঁজ ও নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গেছে আরো ১৪৫ জন শিশু। করানাকালীন গৃহর্কমী হিসেবে কাজ করার সময় ৭ জন মেয়ে নির্যাতনের শিকার হয়, যার মধ্যে তিনজন শিশু মারা যায়।

পর্যালোচনা অনুযায়ী, ২০২০ সালে ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুরাই ধর্ষণের শিকার হয়েছে বেশি। এরপর রয়েছে ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুরা। শিশুদের চকলেট বা খাবারের লোভ দেখিয়ে, ভয় দেখিয়ে, মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে এবং ঘরে একা পেয়ে র্ধষণ করা হয়েছে। এমনকি ত্রাণ দেয়ার কথা বলেও ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

এই সময়ে আত্মহত্যা করছে ৩৪ জন শিশু এবং আত্মহত্যার চেষ্টা করতে গিয়ে আহত হয়েছে ২৩ জন।

২০২০ সালে নিখোঁজ ও অপহরণের শিকার হয়েছে ২৯ জন শিশু। অপহরণের কারণ হিসেবে টাকার জন্য, প্রেমঘটিত সমস্যা, বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, প্রতিশোধ গ্রহণ, পাচার ও মুক্তিপণ দাবির কথা উঠে এসেছে সংবাদে।

এমজেএফের বিশ্লেষণে ২০২০ সালে ১২ ধরণের ইতিবাচক সংবাদের সংখ্যা ৩৩০টি, এবং ২৬ ধরনের নেতিবাচক ঘটনায় ১৩৬১টি সংবাদের কথা বলা হয়েছে।

এমজেএফের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, ‘এমজেএফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী শিশুরা নিজের বাসায় নিরাপদ নয়। শিশুরক্ষায় নিয়োজিত সরকারি প্রতিষ্ঠানের সকলকে আরো বেশি দায়িত্ববান হওয়ার পাশাপাশি শিশু অধিকার রক্ষায় সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’

বিরাজমান নারী-শিশু নির্যাতনকে ‘সূর্যগ্রহণের গ্রাসের’ সঙ্গে তুলনা করে অ্যারোমা দত্ত বলেন, ‘শিশু অধিকার রক্ষার কাজ নিবিড়ভাবে সম্পাদনে শিশু-বিষয়ক মন্ত্রণালয়/বিভাগের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। নীতিনির্ধারণ, কর্ম-সম্পাদন ও কাজের নিবিড় তদারকীর জন্য সবাইকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে।’

মহিলা ও শিশু-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মুহিবুজ্জামান মনে করেন, শিশু নিরাপত্তার সংকট উদ্বেগজনক।

তিনি আইনি কার্যক্রমের পাশাপাশি সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে বিরাজমান সমস্যা মোকাবেলার পরামর্শ দেন।

করোনার কারণে শিশু শিক্ষার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন ফাতেমা ইউসুফ।

রাফেজা শাহীন ধর্ষকের মনস্তত্ব নিয়ে ‘অধিক মনোযোগের’ জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহবান জানান।

মহামারীর দিনগুলোতে এই ঘরবন্দি সময়েও শিশু ধর্ষণ ও বাল্যবিবাহের ঘটনা ‘আশংকাজনকভাবে’ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন-এমজেএফ। সংস্থাটি শনিবার জানিয়েছে ২০২০ সালের জানুয়ারী থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ৬২৬ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

শেয়ার করতে চাইলে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ...
© বাংলা বাহন সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০১৯-২০২৪।
ডিজাইন ও আইটি সাপোর্ট: বাংলা বাহন
error: Content is protected !!