1. admin@banglabahon.com : Md. Sohel Reza :
সীতাকুণ্ডে কন্টেইনার ডিপোতে আগুন ও বিস্ফোরণে মৃত্যু বেড়ে ৪৯
বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন

সীতাকুণ্ডে কন্টেইনার ডিপোতে আগুন ও বিস্ফোরণে মৃত্যু বেড়ে ৪৯

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশ: সোমবার, ৬ জুন, ২০২২

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বেসরকারি বিএম কন্টেইনার ডিপোতে আগুন লেগে বিস্ফোরণে মৃত বেড়ে ৪৯ জন হয়েছে। দুই শতাধিক আহতকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে হাসপাতালে।

নগরী থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে সোনাইছড়ি ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামে ওই কন্টেইনার ডিপোতে শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুন লাগে। পরে রাসায়নিকের কন্টেইনারে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণ ঘটতে থাকলে বহু দূর পর্যন্ত কেঁপে ওঠে।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের সবগুলো ইউনিট চেষ্টা করেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারায় রাতে সাড়ে ৩টার দিকে ফেনী, নোয়াখালী ও কুমিল্লা থেকে অগ্নি নির্বাপক গাড়ি পাঠাতে অনুরোধ করা হয়।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আনিছুর রহমান জানান, ডিপোতে রাসায়নিক থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে তাদের বেগ পেতে হয়েছে। রাতে বারবার বিস্ফোরণে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে বার বার। রোববার সকালে তারা আগুন মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এলেও পুরোপুরি নেভাতে পারেননি।

ওই ডিপোতে রাসায়নিকায় অগ্নিকাণ্ডের পর বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে বলেও জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অনেকে।

চট্টগ্রামের সহকারী কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকের স্টাফ অফিসার প্লাবন কুমার বিশ্বাস জানান, রাত ১০টা পর্যন্ত ৪৯ জনের মৃত্যুর তথ্য তারা পেয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৩ জনের পরিচয় জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে ৯ জন ফায়ার সার্ভিসের কর্মী।

সিভিল সার্জনের কার্যালয় জানিয়েছে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, পার্কভিউ হাসপাতাল ও অন্যান্য হাসপাতালে আহত বা দগ্ধ মোট ১৮২ জন ভর্তি আছেন। ওই দুই হাসপাতাল থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে ১২ জনকে। আরও ১০০ জনের বেশি রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

আহত ও দগ্ধদের মধ্যে অন্তত ১১ জন পুলিশও রয়েছেন। তাদের মধ্যে দুই পুলিশ সদস্যকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কন্টেইনার ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরাও আছেন। সকালে ডিপোতে এসে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো আশরাফ উদ্দীন সাংবাদিকদের বলেন, নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা এবং প্রাথমিকভাবে আহতদের ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। সব বিভাগের প্রতিনিধিদের নিয়ে দ্রুত তদন্ত কমিটি করা হবে।
“এখনো পর্যন্ত মালিকপক্ষের কারো সাথে যোগাযোগ হয়নি। সেনাবাহিনীর দল এসেছে। গতরাতে আগুন লাগে, আপনারা দেখছেন, এখনো জ্বলছে। ডিপোতে ড্রেন আছে, সেই ড্রেন হয়ে খালে গেছে সেই খাল আবার সাগরের সাথে সংযোগ আছে। রাসায়নিক যাতে সাগরে না যায় সে লক্ষ্যে উনারা কাজ করছেন।”

সেনাবাহিনীর ১ ইঞ্জিনিয়ার কোরের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনিরা সুলতানা বলেন, “সমুদ্রে যাতে রাসায়নিক না যায়, সেটা প্রটেক্ট করাই এখন আমাদের মূল কাজ। সে লক্ষে কাজ চলছে। কিন্তু কয়টা কন্টেইনারে রাসায়নিক ছিল তা এখনো জানা যায়নি।”

বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাজাহান ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের বলেন, “এই ডিপো যারা পরিচালনা করছেন, তাদের আমরা খুঁজে পাচ্ছি না। তারা ফায়ার ব্রিগেডকে গাইড করতে পারবে কোথায় কোন কন্টেইনার আছে। তাহলেই আগুন নেভানো সম্ভব। তাদের আহ্বান করছি তারা যেন দ্রুত এখানে আসে।

“এখানে সব রপ্তানি পণ্য আসে। রপ্তানির মধ্যে রাসায়নিক থাকতে পারে। ফায়ার ব্রিগেড জানিয়েছে রাসায়নিকের ২৬টি কন্টেইনার ছিল। ভিতরে গিয়ে দেখলাম ইকুইপমেন্ট আছে, কিন্তু লোকজন নেই ডিপোর। এমনকি ট্রেইলারও সেখানে রয়ে গেছে।”

তিনি বলেন, “আমরা বন্দর থেকে একটি তদন্ত কমিটি করেছি। অনিয়ম ছিল কিনা তা তদন্ত কমিটি অনুসন্ধান করে বলবে, নিরাপত্তায় বা অগ্নি নির্বাপণে কোনো ঘাটতি ছিল কিনা। বিস্ফোরণের কারণে আগুন ছড়িয়ে গেছে। শুরুতেই যদি সাহসিকতার সাথে আগুন নিয়ন্ত্রণ করা যেত, তাহলে এত ব্যাপক হত না।”

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাঈনুদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, কুমিল্লা ও ফেনীর ২৫টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করছে। সেনাবাহিনীর একটি কোম্পানিও অগ্নি নির্বাপণ ও উদ্ধার কাজে যোগ দিয়েছেন।

“এখানে কয়েকটা ড্রামে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড লেখা পেয়েছি। সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল এসেছেন। মালিকপক্ষের কাউকে আমরা পাইনি। কোথায় কোন পণ্যের কন্টেইনার রেখেছেন তা তো আমরা জানি না।”

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ...
© বাংলা বাহন সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০১৯-২০২৩।
ডিজাইন ও আইটি সাপোর্ট: বাংলা বাহন
error: Content is protected !!