1. admin@banglabahon.com : Md Sohel Reza :
ইরান যেভাবে মিত্র থেকে ইসরায়েলের শত্রু
রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ০৫:৩২ অপরাহ্ন

ইরান যেভাবে মিত্র থেকে ইসরায়েলের শত্রু

বি‌দেশ ডেস্ক
  • প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২১

ইসরায়েল তাদের জন্য ইরানকে সবচেয়ে হুমকি মনে করে। অথচ দেশ দুটি এক সময় ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল। কিন্তু তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি এখন তেল আবিবের অস্তিত্বের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক মনে করে এবং তাদের থামাতে রীতিমতো মধ্যপ্রাচ্যে ছায়া যুদ্ধ শুরু করেছে দেশটি।

বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, বিগত ৫০ বছর ইরান ও ইসরায়েল মিত্র থেকে পরস্পরের শত্রুতে পরিণত হয়েছে। অথচ ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল সৃষ্টির সময় ইরানের সাথে মিত্রতা গড়ে তোলে। তুরস্কের পর দ্বিতীয় মুসলিম দেশ হিসেবে ইহুদি ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয় ইরান। তেল আবিব ইরানের তৎকালীন শাসক শাহ মুহাম্মদ রেজা পাহলভির সাথে জোট গড়ে। ওই সময়ে ইরান ছিল মধ্যপ্রাচ্যে ইহুদিদের সবচেয়ে বড় বসবাসের স্থান।

ইরান থেকে নতুন ইহুদি ইসরায়েল ৪০ শতাংশ তেল আমদানি করত। বিনিময়ে অস্ত্র, প্রযুক্তি ও কৃষিপণ্য দিত। এমনকি ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ শাহের গোপন পুলিশ বাহিনী সাভাকের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিত।

১৯৭৯ সালে ইসলামিক বিপ্লবের মুখে ইরানে শাহের পতন ঘটে। এরপরই মূলত ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সম্পর্কের পতন ঘটে। ইসরায়েল এখন পর্যন্ত ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে স্বীকৃতি দেয়নি।

ইরানি বিপ্লবের নায়ক আয়াতুল্লাহ ইসরায়েলের জেরুজালেম দখলকে অবৈধ এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যার অভিযোগ এনেছেন। যদিও অলিখিতভাবে দুই দেশ বাণিজ্যিক সম্পর্ক ঠিক রেখেছে।

১৯৮০ সালে ইসরায়েলের দখলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনের ইসলামী দলগুলো জিহাদ ঘোষণা করে, তাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছে ইরান। যদিও ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে ইরাক-ইরান যুদ্ধে তেহরানকে ইসরায়েল দেড় হাজার মিসাইল দিয়েছে।

এরই মধ্যে ১৯৮২ সালে লেবাননে ইসরায়েল বিরোধী সংগঠন হিজবুল্লাহর জন্ম হয়। জন্মের পর থেকেই সংগঠনটিকে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে আসছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড। ১৯৯২ সালে আর্জেন্টিনায় ইসরায়েল দূতাবাসে হামলা চালিয়ে ২৯ জনকে হত্যা এবং ১৯৯৪ সালে ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর হামলায় ৮৫ জন নিহতের জন্য হিজবুল্লাহকে দায়ী করে ইসরায়েল।

ইরান ১৯৯৮ সালে জানায়, তারা শাহাব-৩ মিসাইলের যে পরীক্ষা চালিয়েছে, এটি দখলদার ইহুদি ইসরায়েলে আঘাত হানতে সক্ষম। এরপর থেকে ইরান এ জাতীয় কর্মসূচির সাথে পরমাণু শক্তি অর্জনে মনোযোগ দেয়। আর ইসরায়েলও ধীরে ধীরে শত্রুতে পরিণত হয়।

২০০৫ সালে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের আমলে ইরান কঠোর অবস্থান ঘোষণা করে। বিশ্বের মানচিত্র থেকে ইসরায়েলের নাম মুছে ফেলার হুমকি দেয়। এরপর ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইসরায়েলকে মধ্যপ্রাচ্যের ‘ক্যানসারের টিউমার’ ঘোষণা দিয়ে ছেটে ফেলার আহ্বান জানান।

সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ চলছে ২০১১ সাল থেকে। সাথে ইসরায়েলের সাথেও প্রায়ই দেশটির সংঘর্ষ হয়। ইসরায়েলের অভিযোগ, হিজবুল্লাহ এবং ইরান সরাসরি সিরিয়াকে সহায়তা করে আসছে। এমন প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল ইরানের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও আঞ্চলিক শত্রু সৌদি আরবের সাথে মিত্রতা গড়ে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সুন্নী সৌদি আরবের সাথের এ সম্পর্কে তেহরানের বিরুদ্ধে উস্কে দিতে সক্ষম হয়েছে।

চলতি বছরের ১ মার্চ নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, ওমানের গালফ সাগরে তাদের জাহাজে বিস্ফেরণের জন্য দায়ী ইরান। তেহরান এ অভিযোগ শক্তভাবে প্রত্যাখ্যান করে। এর ঠিক দুই সপ্তাহ পরে ভূমধ্যসাগরে ইরানি জাহাজে ‘স্যাবোটাজের’ জন্য ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করে। এরপর গত ৬ এপ্রিল লোহিত সাগরে বিস্ফোরণে একটি ইরানি ফাইটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম খবর দেয়, এ হামলাটি চালিয়েছে ইসরায়েল।

সর্বশেষ ১২ এপ্রিল নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম প্লান্টে হামলার জন্য ইসরায়েলকে দোষারোপ করে কঠিন প্রতিশোধের হুমকে দেয়। এর পরের দিনই তেহরান ৬০ শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার ঘোষণা দেয়, যেটি চূড়ান্তভাবে তাদের পরমাণু শক্তি অর্জনের পথ সুগম করবে। আর এভাবেই মিত্র থেকে চরম শত্রু রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে ইরান ও ইসরায়েল।

শেয়ার করতে চাইলে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ...
© বাংলা বাহন সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০১৯-২০২৪।
ডিজাইন ও আইটি সাপোর্ট: বাংলা বাহন
error: Content is protected !!