1. admin@banglabahon.com : Md. Sohel Reza :
রোজার উত্তাপ বাজারে সবজির দাম দ্বিগুণ | বাংলা বাহন
সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ০৩:৫২ অপরাহ্ন
আপনিও লিখুন:
‘বাংলা বাহন’ নিউজপোর্টালে আপনাদের মতামত, পরামর্শ, সমসাময়িক কোন বিষয়ে লেখা, বিশ্লেষণ, তথ্য, ছবি ও ভিডিও পাঠাতে পারেন banglabahonbd@gmail.com ঠিকানায়।

রোজার উত্তাপ বাজারে সবজির দাম দ্বিগুণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশ: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২০

রমজান শুরুর দেড় থেকে দুই মাস আগেই মুনাফাখোর ব্যবসায়ীরা ছোলা, চিনি, চাল, ডাল, ভোজ্যতেল ও খেজুরের দাম বাড়িয়ে রেখেছে।

তাই পণ্য কিনতে ভোক্তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। ভোক্তাদের অভিযোগ, ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে দাম বাড়িয়েছে। রোজা এলেই তারা এ কাজ করে। এ ব্যবসায়ীরা এখন চালাকির আশ্রয় নিয়েছে। তারা রোজার দুই মাস আগেই অনেক পণ্যের দাম বাড়িয়ে রেখেছে, যাতে মানুষ না বলতে পারে রোজার কারণে দাম বাড়ানো হয়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর একাধিক কাঁচাবাজার ঘুরে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা হয়। দাম বাড়ানোর পেছনে বিক্রেতাদের বক্তব্য হল, ‘বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন জেলা থেকে রাজধানীতে পণ্য সরবরাহ কম হয়েছে। চাহিদার তুলনায় পণ্য কম থাকায় দাম বাড়তে শুরু করেছে। তবে ভোক্তারা বলছেন, ‘দাম বাড়ার পেছনে ব্যবসায়ীদের কারসাজি রয়েছে। প্রতি বছরই রমজান শুরু হওয়ার আগে বিক্রেতারা পণ্যের দাম বাড়িয়ে অতি মুনাফা করে। এবারও সে কাজই করছে তারা। দুর্বল বাজার মনিটরিংয়ের কারণেই মুনাফালোভীরা এগুলো করতে পারছে।’

প্রতিবছর রোজা শুরুর ঠিক আগের দিন কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্য কিনতে সাধারণ মানুষের একটু বেশি ভিড় দেখা যায়। তবে করোনাভাইরাসের কারণে এবার ক্রেতাদের ভিড় কিছুটা কম ছিল। যদিও গত কয়েক দিনের তুলনায় ভিড় বেশি ছিল। বাজারগুলোতে ক্রেতাদের মধ্যে সামাজিক দূরত্বও ঠিক ভাবে মানতে দেখা যায়নি। তবে বেশ কয়েকটি বাজারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে কাজ করতে দেখা গেছে।

বাজারগুলোতে সবজি বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিকেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা; যা একদিন আগে বৃহস্পতিবার বিক্রি হয়েছে ২০ টাকা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভ্যানে এ বেগুন ৬০ টাকা বিক্রি করতে দেখা গেছে। প্রতিকেজি শসা বিক্রি হয়েছে ৩০-৩৫ টাকা; যা এক দিন আগে বিক্রি হয়েছে ২০-২৫ টাকা।

গাজর বিক্রি হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা; যা এক দিন আগে বিক্রি হয়েছে ২০-২৫ টাকা। প্রতি আঁটি পুদিনা পাতা বিক্রি হয়েছে ২০-২৫ টাকা; যা একদিন আগে বিক্রি হয়েছে ১০-১৫ টাকা। প্রতি আঁটি ধনেপাতা বিক্রি হয়েছে ২৫ টাকা; যা একদিন আগে বিক্রি হয়েছে ১০ টাকা। প্রতি হালি লেবু বিক্রি হয়েছে ৪০-৫০ টাকা; যা একদিন আগে বিক্রি হয়েছে ২০-২৫ টাকা।

রাজধানীর বিজ্ঞান কলেজের সামনে অস্থায়ী বাজারে সবজি কিনতে আসা আবদুর রাজ্জাক অভিযোগ করেন, একদিন আগে যে বেগুন কিনেছি ২০ টাকা কেজি দরে, আজ (শুক্রবার) বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা। এছাড়া রমজানে ইফতারে ব্যবহৃত অন্যান্য সবজির দামও বেড়েছে। যদিও বাজারে সব সবজির সরবরাহ বেশি।

চাহিদার তুলনায় মানুষ কিন্তু কম কিনছে। তারপরও দাম বাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বিক্রেতারা সিন্ডিকেট করে সবজিগুলোর দাম বাড়িয়েছে। বাজার মনিটরিং জোরদার না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।’ জানতে চাইলে এ বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা মো. আলী হোসেন বলেন, ‘পাইকারি বাজারে রমজানে ব্যবহৃত সবজিগুলোর দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। যে কারণে বেশি দাম দিয়ে কিনে এনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’

কারওয়ান বাজারের পাইকারি সবজি বিক্রেতা মো. আকবর বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে সবজি আসতে পারেনি। এছাড়া করোনা পরিস্থিতিতে পরিবহন কম থাকায় যাতায়াত বাড়া বেশি লেগেছে। যে কারণে বাড়তি টাকা খরচ হয়েছে। তাই সবজিগুলোর দাম বাড়তি।’

জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেলের সদস্য ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল জব্বার মণ্ডল বলেন, ব্যবসায়ীরা যাতে কারসাজি করতে না পারে সেজন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ভোক্তা অধিদফতরের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত বাজার তদারকি করা হচ্ছে। অনিয়ম পেলেই আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। হঠাৎ করে পণ্যের দাম বাড়ার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারসাজি পেলে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ...
© বাংলা বাহন সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২০-২০২১।
ডিজাইন ও আইটি সাপোর্ট: বাংলা বাহন